প্রচ্ছদ > ক্যারিয়ার > পরীক্ষার প্রস্তুতি > ৩৪তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি
৩৪তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

৩৪তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

২৪ মার্চ শুরু হচ্ছে ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা। শেষ সময়ের প্রস্তুতি এনে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির কথা জানাচ্ছেন মিনহাজুল ইসলাম জায়েদ

তিন ধাপের বিসিএস পরীক্ষার সবচেয়ে কঠিন ধাপ লিখিত পরীক্ষা। বিসিএসে টিকে থাকা, পছন্দীয় ক্যাডার পাওয়া এবং মেধাক্রমে শীর্ষে অবস্থান- সব কিছুই নির্ভর করে লিখিত পরীক্ষার ওপর। প্রস্তুতির শুরুতেই নিজের দক্ষতা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে। এখানে যারা ভালো করবে, তারাই এগিয়ে যাবে। উপস্থাপনা, শব্দচয়ন ও বর্ণনায় চৌকস হতে হবে। প্রতিটি উত্তরের শুরু ও শেষ ভালো হতে হবে। প্রশ্নসংশ্লিষ্ট সব তথ্য সংক্ষপ্তিভাবে ভূমিকায় দেওয়া যেতে পারে, যাতে সূচনা অংশ পড়েই পরীক্ষক বুঝে নেন উত্তরদাতা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান রাখে। উপসংহারে নিজস্ব মতামত ও প্রস্তাবনা যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে হবে।
বাংলা ও ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ বিষয়াবলি উভয় পত্র, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে অনেক লিখতে হয় বলে সময়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রায় সমান হলে ভালো। একটি বেশি ভালো লিখতে গিয়ে অন্যটি যেন অসম্পূর্ণ না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি যেভাবে নেওয়া যেতে পারে-

বাংলা
বাংলা প্রথম পত্রে ব্যাকরণ, সাহিত্য, ভাবসম্প্রসারণ, সারাংশ, সারমর্মবিষয়ক প্রশ্ন আসে। ব্যাকরণে ভালো করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ব্যাকরণ বই পড়তে হবে। ভাবসম্প্রসারণ প্রশ্নে উল্লিখিত দৈর্ঘ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সারাংশ তিন থেকে পাঁচ বাক্যে শেষ করতে হবে। বাংলা সাহিত্যের উৎপত্তি ও যুগ বিভাগ, চর্যাপদ, শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্য, মঙ্গল কাব্য, বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের সম্পর্কে ধারণা থাকা চাই। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্র থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। সাহিত্যের বিখ্যাত চরিত্র সম্পর্কেও প্রশ্ন হয়। সাহিত্যে প্রত্যাশিত নম্বর পেতে পিএসসি সিলেবাসভুক্ত (লিখিত পরীক্ষার ফরম কেনার সময় যে নমুনা সিলেবাস সরবরাহ করা হয়) কবি-সাহিত্যিক ছাড়াও সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিক সম্পর্কে জানা থাকতে হবে। দ্বিতীয় পত্রে সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ে রচনা আসে। রচনায় ভালো করতে হলে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন রচনা বইয়ের পাশাপাশি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় নিয়মিত পড়লে আশানুরূপ উত্তর করা যাবে।

ইংরেজি
পরীক্ষায় টিকে থাকা, না থাকা কিংবা কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পাওয়া- এসব অনেক কিছু নির্ভর করে ইংরেজির ওপর। অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাবানুবাদ শ্রেয়। সারাংশ অনধিক তিন বাক্যে শেষ করতে হবে। সারাংশের ক্ষেত্রে প্রশ্নে উলি্লখিত শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। মাধ্যমিক পর্যায়ের বোর্ড নির্ধারিত English Grammar বই পড়লে ভালো করা যাবে। রচনা জটিল বাক্যে না লিখে সরল ও ছোট ছোট বাক্যে লেখা ভালো। ইংরেজি পত্রিকা ও ম্যাগাজিন পড়ার অভ্যাস কাজে দেবে।

গণিত
পরীক্ষার্থীর মধ্যে ব্যবধান গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে গণিত। এখানে শতভাগ নম্বর পাওয়া যায়। আবার সামান্য ভুলেই বিরাট মাসুল দিতে হয়। তাই গণিতে সর্বাধিক মনোযোগ দিতে হবে। যারা বিজ্ঞানে পড়াশোনা করেনি তাদের গণিতে একটু বেশি সময় দিতে হবে। পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি থেকে প্রশ্ন হয়। পাটিগণিত ও বীজগণিতে ভালো প্রস্তুতি নিলে প্রয়োজনীয় উত্তর করা যায়। আগের মাধ্যমিক পর্যায়ের অথবা বর্তমানের অষ্টম শ্রেণীর গণিত বই চর্চা করতে হবে। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক অভীক্ষায় ৫০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর করতে হয়। মানসিক অভীক্ষা বিষয়ে Analogy, Synonym, Antonym থেকে যেমন প্রশ্ন হয়, তেমনি সাধারণ জ্ঞান থেকেও হয়।

বাংলাদেশ বিষয়াবলি
প্রথম পত্রে বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক গঠন ও অবস্থান, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, মুক্তিযুদ্ধ, বিশেষ করে ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ঘটনাপুঞ্জি, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বৈশষ্ট্যি, প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদ, পানি ও বিদ্যুৎশক্তির ব্যবস্থাপনা, সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কৌশল, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষা, জিএসপি ও জিডিপিসংক্রান্ত প্রশ্ন হয়। মাধ্যমিক পর্যায়ের সামাজিক বিজ্ঞান বই পড়তে হবে। বিভিন্ন গবেষণামূলক বই পড়া উচিত।
দ্বিতীয় পত্রে সংবিধান, পররাষ্ট্রনীতি, স্থানীয় সরকার, এনজিওর ভূমিকা, নারীর ক্ষমতায়ন, সুধীসমাজ, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা, সুশাসন, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে দাতাসংস্থাগুলোর অবদান, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং বিশ্বায়নের প্রভাববিষয়ক প্রশ্ন হয়ে থাকে। সংবিধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সংবিধানের উত্তর হুবহু সংবিধানের ভাষায় লেখার প্রয়োজন নেই। কিন্তু অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, মূল অর্থের যেন কোনো পরিবর্তন না হয়। সমসাময়িক জাতীয় ঘটনা, সমস্যাবলি বিষয়ে জানা থাকতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
এ বিষয়ের পরিধি অনেক। প্রস্তুতিও নিতে হবে বেশি। নমুনা সিলেবাসভুক্ত সব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বা সংগঠনের সম্যক ধারণা থাকতে হবে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, সার্ক, আসিয়ান, ওআইসি, ইইউ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, ওপেক, জলবায়ু পরিবর্তন, গ্রিনহাউস ইফেক্ট, খাদ্যনিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন হতে পারে। চলমান বিশ্বে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ঘটনাবলি থেকে প্রশ্ন থাকবেই। নিয়মিত পত্রপত্রিকা পড়তে হবে। দেখতে হবে সংবাদ, সংবাদ বিশ্লেষণ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, গতিসূত্র, অভিকর্ষ, মহাকর্ষ, চুম্বক, ডায়নামো, ট্রান্সফরমার, জারণ-বিজারণ, বায়ুর উপাদান, বায়ুমণ্ডল ও দৈনন্দিন বিজ্ঞানবিষয়ক প্রশ্ন হয়ে থাকে। মাধ্যমিক পর্যায়ের সাধারণ বিজ্ঞান বই অধ্যয়নে সহজেই এসব উত্তর করা যায়। অতিপরিচিত কিছু রোগব্যাধি (যেমন-জন্ডিস, ক্যান্সার, এইডস, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক) সম্পর্কিত তথ্যাবলি জানতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি অংশে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কিত মৌলিক প্রশ্ন আসে। জুনিয়র পর্যায়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বই অধ্যয়ন করলে ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব।
এ সম্পর্কে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকারী, বর্তমানে ভৈরব উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত কুমার দাশ বলেন, ‘ভালো ফলের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পড়া উচিত রুটিন করে। যেসব বিষয়ে ঘাটতি আছে, সেগুলোতে অধিক মনোযোগ দিতে হবে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নের নম্বর ও সময়ের দিকে খেয়াল রেখে উত্তর করতে হবে।’

৩৪তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি

 

Comments

comments

Comments are closed.