প্রচ্ছদ > ক্যারিয়ার > পরীক্ষার প্রস্তুতি > নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি
নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি

নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি

বেসরকারি স্কুল-কলেজে এখন আর নিবন্ধন ছাড়া শিক্ষক হওয়া যাবে না। নিবন্ধন থাকলেই কেবল শিক্ষক পদে আবেদন করা যাবে। ৩০ ও ৩১ মে ২০১৪ বসছে দশম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার আসর। প্রস্তুতির খুঁটিনাটি জানাচ্ছেন আরাফাত শাহরিয়ার

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন আইন-২০০৫ অনুসারে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে আগে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য। এ আইনের ১০(২) ধারা অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, নিবন্ধিত ও প্রত্যায়িত না হলে কেউ কোনো বেসরকারি স্কুল বা কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে পারবেন না। এ বছর শুরু হয়ে গেছে নিবন্ধন কার্যক্রম।  বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে http://infopedia.com.bd/wp-content/uploads/2014/03/NTRCA-Circular-2014-INFOPEDIA.pdf ওয়েবলিংকে।

আবেদন করেছেন কি?
চলছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার কার্যক্রম। অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ ও ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ মার্চ ২০১৪ সন্ধ্যা ৬টা। আবেদনের পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে  টেলিটক মোবাইল থেকে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া যাবে। অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপির সঙ্গে সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, নম্বরপত্র, নাগরিকত্ব সনদ, প্রশিক্ষণসনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি ডাকযোগে পাঠাতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। ঠিকানা : জিপিও বক্স নম্বর ১০৩, ঢাকা-১০০০। এসব কাগজপত্র সরাসরি, রেজিস্ট্রি ডাক কিংবা কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো যাবে না। স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা হবে ৩০ মে ও কলেজ পর্যায়ে ৩১ মে ২০১৪।

২০০ নম্বরের পরীক্ষা
স্কুল ও কলেজ- উভয় ক্ষেত্রেই পরীক্ষার মোট নম্বর ২০০। ১০০ আবশ্যিক আর ১০০ ঐচ্ছিক। পাস নম্বর ৪০। আবশ্যিক পরীক্ষা হবে বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে। ১ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর করতে হবে ১০০টি প্রশ্নের। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে ০.৫ নম্বর। প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন থাকে ২৫টি করে। ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা হবে লিখিত। ৩ ঘণ্টায় উত্তর করতে হবে ১০০ নম্বরের।

বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি
বাংলা
স্কুল ও কলেজ-উভয় পরীক্ষায় বেশির ভাগ প্রশ্নই করা হয় ব্যাকরণ থেকে। ভাষারীতি ও বিরামচিহ্ন, সারসংক্ষেপ, ভাবসম্প্রসারণ, বাগধারা ও বাগবিধি, পত্রলিখন, ভুল সংশোধন ও সমাস-এ বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন করা হয় স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষায়। কলেজ পর্যায়ে এসব বিষয়ের পাশাপাশি সমার্থক শব্দ থেকে প্রশ্ন করা হয়।
অষ্টম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাজমুল হোসেন জানান, বাংলা বিষয়ের প্রস্তুতির জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বইটি বেশ কাজে দেবে। এ ছাড়া বোর্ড অনুমোদিত মাধ্যমিক পর্যায়ের অন্যান্য বাংলা ব্যাকরণ বই পড়লে উত্তর করা সহজ হবে।

ইংরেজি
চেঞ্জিং ওয়ার্ডস ফ্রম ওয়ান পার্টস অব স্পিচ টু অ্যানাদার অ্যান্ড মেকিং সেন্টেন্স উইথ দেম, ট্রান্সলেশন (ইংরেজি থেকে বাংলা ও বাংলা থেকে ইংরেজি), প্যারাগ্রাফ/রিপোর্ট/
ডেসক্রিপশন রাইটিং, ট্রান্সফরমেশন অব সেন্টেন্স থেকে প্রশ্ন করা হয় স্কুল পর্যায়ে। কলেজ পর্যায়ে এগুলোর পাশাপাশি কমিপ্রহেনসিভ কোয়েশ্চেন, কমপ্লিটিং সেন্টেন্স, ভয়েস চেঞ্জ, ন্যারেশন, রাইট ইউজেজ অব ভার্ব থেকেও প্রশ্ন করা হয়। তবে ট্রান্সফরমেশন অব সেন্টেন্স থেকে কোনো প্রশ্ন আসবে না কলেজ পর্যায়ে।
মাধ্যমিক পর্যায়ের গ্রামার বই পড়লেই এ অংশে ভালো করা যায়। গেলবারের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দিদার হোসেন জানান, কেবল পরীক্ষার আগ-মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ইংরেজিতে ভাল নম্বর পাওয়া কঠিন। ভাল নম্বর পাওয়ার জন্য তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। ট্রান্সফরমেশন অব সেন্টেন্স, কমপ্লিটিং সেন্টেন্স, ভয়েস চেঞ্জ, ন্যারেশন প্রভৃতির উত্তর করার সময় মাথায় রাখতে হবে গ্রামারের বিষয়টি।

গণিত
গণিত অনেকের কাছেই তুলনামূলকভাবে কঠিন। চর্চা করলে এ বিষয়েই সবচেয়ে ভালো নম্বর তোলা সম্ভব। সরল, গড়, ল.সা.গু, গ.সা.গু, শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত, সমানুপাত, উৎপাদক, বর্গ ও ঘন সম্পর্কিত সূত্রাবলি ও প্রয়োগ, সেট, ফাংশন, সূচক, লগারিদম, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, পরিমিতি-এসব বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয় স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের পরীক্ষায়।
নাজমুল হোসেন জানান, পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, পরিমিতি-গণিতের প্রতিটি অংশে জোর দিতে হবে। সূত্রগুলো মুখস্ত রাখতে হবে, নিয়মিত চর্চা করতে হবে।
বিগত বছরের প্রশ্ন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গণিতে কিছু সমস্যা থাকে, যার সমাধানে অনেক সময় লেগে যায়। কৌশলী না হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করা যায় না। এর জন্য জানতে হবে সংক্ষপ্তি পদ্ধতি।

সাধারণ জ্ঞান
অন্য তিনটি বিষয়ের তুলনায় সাধারণ জ্ঞানের পরিধি বড়। সিলেবাসও সুনির্দিষ্ট নয়। এ অংশে মূলত বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, দৈনন্দিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ ও চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক বিষয়াবলি থেকে প্রশ্ন করা হয়। বাংলাদেশ অংশে প্রাচীন বাংলার ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নদ-নদী, খাল-বিল, কৃষি, খনিজ সম্পদ বিষয়ে প্রশ্ন আসে। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে বিভিন্ন দেশের রাজধানী, মুদ্রা, আন্তর্জাতিক দিবস, পুরস্কার, গোয়েন্দা সংস্থা, স্বাধীনতাকামী সংগঠন, খেলাধুলা, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংগঠন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা, আন্তর্জাতিক সীমারেখা বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। দৈনন্দিন বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান থাকলেই উত্তর করা যায়। মাধ্যমিক পর্যায়ের সামাজিক বিজ্ঞান ও সাধারণ বিজ্ঞানের বই পড়লে এ বিষয়ে ভালো করা যায়। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি জানার জন্য নিয়মিত পড়তে হবে দৈনিক পত্রিকা।

ঐচ্ছিক বিষয়
২০১২ সালের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ রনি তালুকদার জানান, ঐচ্ছিক বিষয়ে নেওয়া হবে লিখিত পরীক্ষা। যে বিষয়ে আবেদন করেছেন, পরীক্ষা হবে সে বিষয়েই। পরীক্ষায় ভালো করতে হলে সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। বিগত কয়েক বছরের প্রশ্ন দেখলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত ৫টি রচনামূলক প্রশ্নের উত্তর করতে হয়, প্রতিটিতে নম্বর থাকে ১৫। সংক্ষপ্তি প্রশ্নও থাকে ৫টি, প্রতিটির মান ৫। প্রতিটি প্রশ্নের একটি করে অথবা থাকে। বাজারে প্রায় প্রতিটি ঐচ্ছিক বিষয়ে বই পাওয়া যায়। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এসব বই কাজে দেবে।

জেনে রাখা ভালো
পরীক্ষার হলে বিষয় কোড, সেট নম্বর ও রোল নম্বর আবশ্যিক বিষয়ের ওএমআর উত্তরপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে এবং ঐচ্ছিক বিষয়ের উত্তরপত্রের ওএমআর এর প্রথম অংশের নির্ধারিত স্থানে লিখতে হবে ও বৃত্ত ভরাট করতে হবে।
পরীক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানা যাবে ৯৬১৩৮৩৫, ৯৬১৩০২৯, ৯৬১৫৭৫০ ফোন নম্বরে।
ফল প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সনদপত্র পাঠানো হবে স্থায়ী ঠিকানার জেলা শিক্ষা অফিসে। এর আগে ওয়েবসাইটে দেওয়া ফলাফল সাময়িক প্রত্যয়নপত্র হিসেবে ধরা হবে।

দশম নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি (পিডিএফ)

Comments

comments

Comments are closed.