প্রচ্ছদ > ক্যারিয়ার > কোন পরীক্ষার জন্য কোন বই > এক প্রস্তুতিতে অনেক পরীক্ষা
এক প্রস্তুতিতে অনেক পরীক্ষা

এক প্রস্তুতিতে অনেক পরীক্ষা

সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে বছরজুড়েই চলে নিয়োগ কার্যক্রম। বেশ কিছু ব্যাংকে বিভিন্ন পদে এখনো চলছে নিয়োগ কার্যক্রম। আসছে আরো কিছু বিজ্ঞপ্তি। ব্যাংকের চাকরির প্রস্তুতি অন্য যেকোনো চাকরি থেকে একটু আলাদা। তবে একসঙ্গেই হতে পারে সব ব্যাংকের নিয়োগ প্রস্তুতি। লিখেছেন আরাফাত শাহরিয়ার।

ভালো অর্থকড়ি ও নিশ্চিত ভবিষ্যতের আশায় অনেকেরই প্রথম পছন্দ ব্যাংকিং। আর এ কারণেই ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় তুমুল প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়।

বিভিন্ন ব্যাংকের পরীক্ষা পদ্ধতি, বিষয় ও নম্বর বণ্টনে ভিন্নতা থাকলেও প্রশ্নের ধরন সাধারণত একই হয়। সরকারি ব্যাংকগুলোর নিয়োগ পরীক্ষার ধরন প্রায় একই রকম। বেসরকারি ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন একটু আলাদা, প্রশ্নও হয় তুলনামূলক কঠিন। সাধারণত প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ), ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, অর্থনীতি বিভাগ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)।

এক প্রস্তুতিতে অনেক পরীক্ষা

পরীক্ষা পদ্ধতি

আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের সাবেক ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের বর্তমান প্রিন্সিপাল অফিসার রফিকুল হাসান রাকিব জানান, বেসরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণত ১০০ নম্বরের প্রশ্ন হয়। এর মধ্যে এমসিকিউ অংশে থাকে সাধারণত ৬০ থেকে ৮৫ নম্বর এবং ১৫ থেকে ২৫ নম্বর থাকে লিখিত পরীক্ষায়। সরকারি ব্যাংকে সাধারণত এমসিকিউ ও লিখিত মিলিয়ে পরীক্ষা হয় ১০০ থেকে ২০০ নম্বরের। এমসিকিউ অংশে প্রশ্ন হয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি, সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে। লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকে গণিত, ইংরেজি ও অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি থেকে। তবে বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের প্রশ্ন পদ্ধতি একটু আলাদা। সেখানে এ বিষয়গুলো ছাড়াও ইসলামী সংস্কৃতি ও অর্থব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন থাকে। কোনো কোনো ব্যাংকের প্রশ্ন চার-পাঁচটি বিষয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো ব্যাংকে তিনটি বিষয় থেকে প্রশ্ন হয়। পরীক্ষার সময় থাকে এক থেকে তিন ঘণ্টা।

বাংলা

জনতা ব্যাংক লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ অফিসার এমরান হোসেন জানান, সাধারণত ব্যাকরণ ও সাহিত্য থেকে প্রশ্ন করা হয়। ব্যাকরণ অংশে ভাষা, বর্ণ, শব্দ, বাক্য, সন্ধি বিচ্ছেদ, বানান ও বাক্যশুদ্ধি, কারক ও বিভক্তি, সমাস, পদ, প্রকৃতি-প্রত্যয়, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ, বচন, লিঙ্গ প্রভৃতি থেকে প্রশ্ন করা হয়। অনুবাদ ও অনুচ্ছেদও থাকে অনেক ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায়। সাহিত্য অংশে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, সাহিত্যের কাল, বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের জীবন ও কর্ম, সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য ঘটনা, চরিত্র ও উক্তি প্রভৃতি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

ইংরেজি

প্রায় সব নিয়োগ পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। letter, word, sentence, parts of speech, voice, narration, phrase and idioms, correction, tense, number, gender, person, completing sentence, correct spelling, synonym, antonym প্রভৃতি বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। এ ছাড়া বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ও রচয়িতা, কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী, গল্প, উপন্যাস ও নাটকের বিখ্যাত চরিত্র ও উক্তিগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

গণিত ও অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে গণিত বিশেষ গুরুত্ব পায়। সব ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় গণিত প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হয়। তাই নিতে হবে জোর প্রস্তুতি।

গণিত অংশে ভালো করতে শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, পরিমাপ ও একক, গড়, অনুপাত ও সমানুপাত ও পরিমিতি, লসাগু-গসাগু, ঐকিক নিয়ম, বর্গ, সরল থেকে প্রশ্ন থাকে। জ্যামিতি থেকেও প্রশ্ন আসে। অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি থেকে বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয়। নিজের বুদ্ধিমত্তা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিষয়গুলোর উত্তর করতে হবে।

ইসলামী জ্ঞান

বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ভৌগোলিক বিষয়াবলি, আয়তন, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, সীমারেখা, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ, শিল্প ও বাণিজ্য, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, পুরস্কার ও সম্মাননা, অর্থনীতি, কৃষিজ, বনজ, প্রাণিজ ও খনিজ সম্পদ থেকে প্রশ্ন আসে।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠন, চুক্তি ও সনদ, পুরস্কার ও সম্মাননা, বিশ্ব রাজনীতি, সীমারেখা, অর্থনীতি, শিল্প ও বাণিজ্য, খেলাধুলা, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, বিখ্যাত স্থান ও স্থাপনা বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হবে। দুটো অংশে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি থেকে প্রশ্ন আসে।

বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি

পরীক্ষায় বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয় দৈনন্দিন বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে। দৈনন্দিন বিজ্ঞান, বিভিন্ন আবিষ্কার ও আবিষ্কারক, চিকিৎসাবিজ্ঞান, মহাকাশবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, মানবদেহ, তাপ, আলো, বিদ্যুৎ, শব্দ, চুম্বক, উদ্ভিদ ও প্রাণিবিদ্যা, খাদ্য ও পুষ্টি, ভূগোল, কম্পিউটারের ইতিহাস ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে।

ইসলামী জ্ঞান

ইসলামী শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ২৫-৩০ নম্বরের প্রশ্ন করা হয় ইসলামী জ্ঞানবিষয়ক। বিশেষ করে আকাইদ, শরিয়ত, আখলাক, পবিত্রতা, নবী-রাসুল ও সাহাবিদের জীবনী, ইসলামী সমাজব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, ইসলামী অর্থব্যবস্থা, ইসলামী গ্রন্থ ও গ্রন্থকার, কোরআন, হাদিস, মুসলিম কবি, দার্শনিক ও বিজ্ঞানীদের জীবনী ও কর্ম, জিহাদ, আন্দোলন ও সংগঠন প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে।

মৌখিক পরীক্ষা

রফিকুল হাসান রাকিব জানান, ভাইভায় নম্বর না-ও থাকতে পারে। কিন্তু ভাইবা বোর্ডেই প্রার্থীকে নেওয়া হবে কি না চূড়ান্ত করা হয়। ঢাকা ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ত্যাহনিয়াত আহমেদ করিম জানান, মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর উপস্থাপন ক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা, কনফিডেন্স লেভেল, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, আচরণ, উচ্চারণ, স্মার্টনেস দেখা হয়। ভাইভা বোর্ডে যেতে হবে মার্জিত পোশাক পরে। টাই পরে যাওয়াটাই রীতি। কথা বলতে হবে সুন্দর উচ্চারণে, প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।

সহায়ক বই ও পত্রপত্রিকা

ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষায় ভালো করতে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্য বইগুলো নিয়মিত পড়তে হবে। দৈনিক জাতীয় পত্রিকাগুলোর পাশাপাশি টাইমস, রিডার্স ডাইজেস্ট, ইকোনমিকসের মতো আন্তর্জাতিক পত্রিকাগুলো নিয়মিত পড়তে হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক তথ্যভিত্তিক মাসিক পত্রিকা, যেমন কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, কারেন্ট ওয়ার্ল্ড, কারেন্ট নিউজ পড়তে হবে।

ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বাজারে বিষয়ভিত্তিক বই পাওয়া যায়। বিগত বছরের ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধানসংবলিত বই পাওয়া যায় বাজারে। এসব বইও প্রস্তুতিতে বেশ সহায়ক। অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটির জন্য অফিশিয়াল জিম্যাট, ব্যারনস জিম্যাট কিংবা আইকিউ টেস্টের যেকোনো বই দেখে নিয়মিত চর্চা করতে হবে।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*