প্রচ্ছদ > ক্যারিয়ার > বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের জন্য কল সেন্টারে চাকরি
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের জন্য কল সেন্টারে চাকরি

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের জন্য কল সেন্টারে চাকরি

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন বিভিন্ন কাজ করতে চান। আর তরুণদের পছন্দসই একটি পেশা কল সেন্টারের চাকরি। বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) নিয়ে আগামী ৯ ও ১০ ডিসেম্বর ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনে ২০০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কল সেন্টারের চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) যৌথভাবে এ আয়োজন করছে। বিপিওকে মূল মাধ্যমে নিয়ে আসা, দেশের তরুণদের বেশি করে এই খাতে আগ্রহী করে তোলা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিপিও খাতের অবস্থানকে তুলে ধরতে এ সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে বলে বাক্য সূত্রে থেকে জানা গেছে। এতে ১০টি দেশের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
বাক্যর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এই সম্মেলনে আমরা ২০০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কল সেন্টারের চাকরির নিয়োগপত্র দেব।’ তিনি বলেন, ‘দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় সাত হাজারের মতো সিভি সংগ্রহ করা হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ক্লাব ও সেমিনারের মাধ্যমে এসব সিভি সংগ্রহ করা হবে। এর পাশাপাশি সিভি ইমেইলেও পাঠানো যাবে : (career@bacco.org.bd) এই ঠিকানায়। এসব কার্যক্রম চলবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। আর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন কল সেন্টারের মাধ্যমে সিভি যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে ২০০ জনকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হবে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বিটিআরসির নিবন্ধিত কল সেন্টারের সংখ্যা ৮০টির বেশি। আর বাক্যর নিবন্ধিত কল সেন্টারের সংখ্যা ৭১। এসব কল সেন্টারে প্রায় ২৩ হাজারের বেশি লোক কাজ করছেন। বর্তমানে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানিসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানে এসব কল সেন্টার তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছে। ফলে বাড়ছে এসব কল সেন্টারের সংখ্যা। তাই এ খাতে চাকরির সুযোগও বাড়ছে। এসব কল সেন্টারে খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ রয়েছে।
ডিজিকন টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদ শরীফ জানান, বর্তমানে তাঁদের এখানে পাঁচ শতাধিক লোক কাজ করছেন। ১৬টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁরা ইতিমধ্যেই তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা দেড় থেকে দুই হাজার লোক নিয়োগ করে থাকি। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও লেখাপড়ার পাশাপাশি এ চাকরিতে সুযোগ আছে। পড়াশোনা শেষে অন্য চাকরিতে ঢোকার ক্ষেত্রেও এই চাকরির অভিজ্ঞতা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে কাজে দেয়।’
কল সেন্টারে চাকরি করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যেকোনো বিষয়ে পড়লেই আবেদন করা যায়। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজিতে ভাষাজ্ঞান, পোশাক, আচরণ, শুদ্ধ উচ্চারণ, ভালো কণ্ঠস্বর ইত্যাদিসহ কম্পিউটার চালনায় মৌলিক জ্ঞান থাকতে হবে।
আমাদের দেশে বর্তমানে কল সেন্টারগুলোতে দুই ধরনের সেবা দেওয়া হয়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সেবা। কল সেন্টারে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রধান কাজ হচ্ছে গ্রাহকের সঠিক সেবা নিশ্চিত করা। গ্রাহকদের ফোনের মাধ্যমে সেবা দেওয়াই কল সেন্টারের প্রধান কাজ। অনেক কল সেন্টার ঘণ্টা হিসেবে বেতন দেয়। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান মাসিক হিসেবেও বেতন দিয়ে থাকে। বেতনের বাইরেও যাতায়াত ভাতা, ছুটি, চিকিত্সাসহ ইত্যাদি ভাতা প্রদান করা হয়।

বিস্তারিত যোগাযোগ  :
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)
ফোন : ০১৯৭১-১২২২২৬
ওয়েব :  www.bacco.org.bd

Comments

comments

Comments are closed.