প্রচ্ছদ > ক্যারিয়ার > বাড়তি আয় > ফুলের ব্যবসায় রোজগার ভালো
ফুলের ব্যবসায় রোজগার ভালো

ফুলের ব্যবসায় রোজগার ভালো

বিয়ে, গায়ে-হলুদ থেকে শুরু করে নানা সামাজিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ফুল ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। বিভিন্ন দিবসেও ফুলের চাহিদা থাকে বেশ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে দিতে পারেন ফুলের দোকান। বিস্তারিত জানাচ্ছেন সাইমুম সাদ

ফুলের চেয়ে ভালো উপহার আর বুঝি হয় না! শুধু উপহার হিসেবে নয়, বিয়ে, গায়ে হলুদ, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে দরকার পড়ে ফুল। বছরজুড়েই থাকে ফুলের চাহিদা। আপনিও দিতে পারেন ফুলের দোকান। শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান বেছে নেওয়া ভালো।

পুঁজি, উপকরণ ও কাঁচামাল
দোকানঘরের ভাড়া ও অগ্রিম টাকার পরিমাণ নির্ভর করে দোকানের অবস্থানের ওপর। ফুলের দোকানের জন্য স্থায়ী উপকরণ কিনতে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার প্রয়োজন হবে। পাঁচটি মাটির ফুলদানি ২৪০-২৮০ টাকা, দুটি বালতি ২৫০-৩০০ টাকা, মগ একটি ৩০-৩৫ টাকা, কাঁচি একটি ৫০ টাকা, ব্লেড দুটি ৬-১০ টাকা, কাঠের শেলফ দুটি ১৮০০-২০০০ টাকা, টেবিল একটি ৪৫০-৫০০ টাকা। এক সপ্তাহের ফুল সাজানোর বাঁশ ও বেতের ঝুড়ি,  রেপিং পেপার, রঙিন কাপড়, স্কচটেপ প্রভৃতি উপকরণ কিনতে লাগবে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি সপ্তাহে ফুল কেনার জন্য ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

ফুল পাবেন কোথায়
যশোরের ঝিকরগাছা ও শার্শা এলাকায় ফুল চাষ বেশি হয়। এ ছাড়া সাভার, গাজীপুর, চুয়াডাঙ্গা, নাটোরসহ অনেক জেলাতেই ফুল চাষ হয়। পাইকারি দামে ফুল কেনার জন্য সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। গোলাপ, রজনিগন্ধা, গাঁদা ইত্যাদি ফুল সাধারণত নানা অনুষ্ঠানে ঘর ও গাড়ি সাজানোয় বেশি ব্যবহার করা হয়। শহরে গ্লাডিওলাস, অর্কিড, দোলনচাঁপা ইত্যাদি ফুলের চাহিদা আছে। এসব ফুল বেশি রাখতে হবে। পাশাপাশি নানা ধরনের কিছু ফুল রাখতে পারলে তা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

পাইকারি দাম
আফ্রিকান গাঁদা প্রতি ১০০টি ২৫০-৩০০ টাকা, ফ্রেঞ্চ গাঁদা ১০০-২৫০ টাকা, রজনিগন্ধা ১০০টির স্টিক ২০০-৩০০ টাকা, গ্লাডিওলাস প্রতি ১০০ স্টিক রংভেদে ৬০০-১৫০০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ১০০টি ১০০-২০০ টাকা, গোলাপ ১০০টি ১০০-২৫০ টাকা, কালেন্ডুলা ১০০টি ১০০-২০০ টাকা, কামিনী পাতা ১০০টি কিনতে লাগবে ১০০-২০০ টাকা। বেলি ফুলের মালা প্রতিটি ১৫-২০ টাকা, ডালিয়া প্রতি স্টিক ১০-১৫ টাকা, জারবেরা প্রতি স্টিক ১৫-২০ টাকা, গোল্ডেন রড প্রতি স্টিক ১-৭ টাকা, দেশি অর্কিড প্রতি স্টিক ১০-২৫ টাকা ও থাই অর্কিড প্রতি স্টিক কেনা যাবে ৪০-৫০ টাকায়।

দোকান পরিচালনার কায়দা-কানুন
ফুল দিয়ে ঘর সাজানো, গাড়ি সাজানো বা নানাভাবে ফুল সাজানোর ছবির বই রাখলে ভালো হয়। তাহলে ক্রেতা দেখে ঘর বা গাড়ি সাজানোর অর্ডার দিতে পারবে। ভাইবোন পুষ্প বিতানের স্বত্বাধিকারী মো. সমীর জানান, দোকানে কাঠের শেলফ বা তাক দেয়াল ঘেঁষে সাজিয়ে নিতে হবে। শেলফের ওপর মাটি বা কাচের ফুলদানিতে ফুল সাজিয়ে রাখতে হবে। একেক ফুলদানিতে একেক ফুল রাখতে হবে। বেত বা বাঁশের ঝুড়িতে কিছু ফুল সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে হবে।
নানাভাবে এই ব্যবসা থেকে আয় করা যায়। দোকানে ফুল, রেডিমেড ফুলের ঝুড়ি, মালা বা তোড়া খুচরা বিক্রির পাশাপাশি অর্ডার নিয়ে ক্রেতার চাহিদামতো ফুলের উপকরণ বানিয়ে বিক্রি করা যায়। একই সঙ্গে করা যায় গাড়ি সাজানোর কাজ। আবার ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী বাড়িতে বা অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে সাজসজ্জার বিনিময়ে ফুলের দাম ও মজুরি পাওয়া যায়।

জানা থাকা চাই
ফুলের ব্যবসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফুল সংরক্ষণ। একটি ফুল অনেক দিন রাখা যায় না, পচে যায়। যেসব ফুল সহজেই নষ্ট হয়ে যায়, সেসব ফুল কম পরিমাণে রাখাই ভালো। শাহবাগের অন্তর পুষ্প বিতানের বিক্রয়কর্মী মামুন জানান, বালতি কিংবা গামলায় পানি রেখে তার ওপর ফুল রাখলে চার দিনের মতো সংরক্ষণ করা যায়। ফুল টাটকা ও সতেজ রাখার জন্য ফুলের ওপর মাঝেমধ্যে পরিষ্কার পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। ফুল সাজানোও এ ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিয়েবাড়ি, বিয়ের বাহন বা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সাজসজ্জার জন্য প্রয়োজনীয় ধারণা থাকা চাই। অভিজ্ঞ কারো সহকারী হিসেবে কিছুদিন কাজ করলে এ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

আয়-রোজগার
প্রতি মাসে ৫০০০ থেকে ৮০০০ টাকার ফুল কিনলে সব খরচ বাদ দিয়ে ফুল বিক্রয় হবে ১০০০০ থেকে ১২০০০ টাকা। এতে ৫০০০-৬০০০ টাকা লাভ করা সম্ভব। তবে লাভের পরিমাণ নির্ভর করে দোকানের অবস্থান, বিক্রির পরিমাণ ও বিনিয়োগের ওপর।

Comments

comments

Comments are closed.