প্রচ্ছদ > ক্যারিয়ার > বাড়তি আয় > বিশ্বকাপে ব্যবসাও আছে
বিশ্বকাপে ব্যবসাও আছে

বিশ্বকাপে ব্যবসাও আছে

ফুটবল-জ্বরে আক্রান্ত পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশেও লেগেছে তার ছোঁয়া। এ সময় বিভিন্ন দেশের জার্সি, পতাকা, বিশ্বকাপের রেপ্লিকা, স্টিকার বিকিকিনিই হতে পারে ভালো ব্যবসা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন তানজিল আহমেদ জনি

বিশ্বকাপ সামনে রেখে পতাকা ও জার্সি বিক্রির ব্যবসা সবচেয়ে বেশি লাভজনক। চলেও দেদার। বাজার থেকে পাইকারি দরে পতাকা ও জার্সি কিনে বিক্রি করতে পারেন। আবার দর্জিকে দিয়ে অল্প খরচে বানিয়েও বিক্রি করতে পারেন। নিজের দোকান থাকলে তো কথাই নেই। যে ধরনের দোকানই হোক না কেন, এ সময়টাতে জার্সি-পতাকা রাখতে পারেন। দোকানের সামনে কিছু পতাকা ও জার্সি ঝুলিয়ে রাখলে ভালো হয়। শহরের বিভিন্ন শপিং মলের খেলাধুলার দোকান ছাড়াও পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করেও আয় করতে পারেন। বিক্রি করতে পারেন বিশ্বকাপের রেপ্লিকা, ফুটবল, স্টিকার, ব্যান্ডানা, বিশ্বকাপের মাসকট পুতুল, তারকা খেলোয়াড়দের ছবি প্রিন্ট করা মগ, চাবির রিং, ক্যাপ, মাথায় বাঁধার রুমাল, ব্রেসলেট, বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলার সময়সূচিসহ অনেক কিছু।

পতাকা ও জার্সিতে বাজিমাত
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইতালি, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের পতাকা ও জার্সির চাহিদা বেশি। পতাকার দাম নির্ভর করবে আকার ও কাপড়ের মানের ওপর। ৫ ফুট বাই সাড়ে তিন ফুট পতাকা ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারেন। ৪ ফুট বাই আড়াই ফুট পতাকা বিক্রি করতে পারেন ৮০-১০০ টাকায়। এ ছাড়া হাতে বহন করার পতাকা বিক্রি করতে পারেন ১০ টাকায়। বাজার থেকে পাইকারি দামে কাপড় কিনে দর্জিকে দিয়ে পতাকা বানালে খরচ কম পড়বে।
থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা জার্সির দাম ৫০০ টাকা থেকে শুরু এবং চীন থেকে আমদানি করা জার্সির দাম ৩০০ টাকা থেকে শুরু। দেশে তৈরি জার্সির দাম ২৫০ টাকা থেকে শুরু। মূলত কাপড়ের মানের ওপর নির্ধারিত হয় জার্সির দাম। চাইলে স্থানীয় বাজার থেকে কম দামে কাপড় কিনেও জার্সি তৈরি করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি পতাকায় গড়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকবে। আর প্রতি জার্সিতে লাভ থাকবে ৪০-৭০ টাকা।

স্ক্রিনপ্রিন্ট করে আয়
অনেক ফুটবলপ্রেমী জার্সিতে নিজের নাম ও পছন্দের নম্বর স্ক্রিনপ্রিন্ট করাতে চান। এতে খরচ হবে ২০০-৩০০ টাকা। কোনো প্রিন্টিং প্রেসের সঙ্গে আলোচনা করে পাশাপাশি এ কাজটিও করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি পিস জার্সিতে লাভ থাকে ১০-২০ টাকা। মগে তারকা খেলোয়াড়দের ছবি স্ক্রিনপ্রিন্ট করে বিক্রি করে আয় করতে পারেন। প্রতিটি মগ ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি করলে ২০-৩০ টাকা লাভ করা সম্ভব। প্রিন্টিং ব্যবসায় জড়িত থাকলে এ সময়টাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলার সময়সূচি প্রিন্ট করে বিক্রি করে বাড়তি কিছু আয় করতে পারেন। পোস্টকার্ড, ট্যাবলেট ও ক্যালেন্ডার সাইজের বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়সূচি ছাপিয়ে যথাক্রমে ৫, ১৫ ও ২৫ টাকায় বিক্রি করতে পারেন।

বিশ্বকাপের রেপ্লিকা, মাসকট
বসুন্ধরা শপিং মল, গুলশান ডিসিসি মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিং মলে পাওয়া যায় সোনালি ও রুপালি রঙের বিশ্বকাপের রেপ্লিকা। আকারভেদে পাইকারি দাম ৪৫০-৭০০ টাকা। খুচরা বিক্রি করে প্রতিটিতে লাভ থাকতে পারে ১০০-১৫০ টাকা।
ফেভারিট দলের পতাকা, নাম ও লোগোসংবলিত ক্যাপ পাওয়া যাবে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে এবং ৬০-৮০ টাকায় পাইকারি দামে কেনা যাবে প্লাস্টিকের টুপি। ব্রেসলেট কেনা যাবে ৪০-১০০ টাকায়। ব্যান্ডানার দাম পড়বে ৮০-১০০ টাকা। এসব পণ্যে গড়ে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকতে পারে। বিশ্বকাপ ফুটবলেরও চাহিদা আছে। আকার ও মানভেদে প্রতিটি ফুটবলের পাইকারি দাম পড়বে ৫০০-২০০০ টাকা। বিশ্বকাপের মাসকট কেনা যাবে ১৫০-৩০০ টাকায়। এসব পণ্যেও ভালো লাভ থাকে।

গাড়িতে বিশ্বকাপের ছোঁয়া
বিশ্বকাপ উপলক্ষে গাড়ির ভেতরের সাজসজ্জার জন্য বিভিন্ন দেশের পতাকা আঁকা হেড পিলো ও সিটবেল্ট বিক্রি করতে পারেন। প্রতি পিস হেড পিলোর দাম ৩৫০ টাকা থেকে শুরু। সিটবেল্টের দাম পড়বে ১৮০-২০০ টাকা। এ দুটো পণ্য থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে। এ ছাড়া স্প্রিংয়ের মাসকট কেনা যাবে ৩০০ টাকায়। চাবির রিংয়ের দাম পড়বে ৮০-১২০ টাকা। গাড়িতে ফেভারিট দলের মেটাল স্টিকার লাগিয়েও আয় করতে পারেন। দাম পড়বে ২০০-৩০০ টাকা। মাসকট, চাবির রিং ও স্টিকারে গড়ে লাভ থাকবে ২০-৫০ টাকা। তবে যাঁরা গাড়ি ডেকোরেশনের ব্যবসা করেন, তাঁদের জন্য এই ব্যবসা নিরাপদ।

ঘরে বসেই ব্যবসা
অনলাইনে ঘরে বসেই করতে পারেন এ ব্যবসা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বা নিজস্ব ই-কমার্স সাইট হতে পারে মাধ্যম। বিভিন্ন দেশের পতাকা, জার্সি, রেপ্লিকাসহ বিভিন্ন পণ্যের ছবি ও মূল্যতালিকা রাখতে পারেন এতে। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে অর্ডার নেওয়া ও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিনা মূল্যে হোম ডেলিভারি দিয়েও প্রতিটি পণ্যে ১০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

প্রজেক্টর ও স্ক্রিন ভাড়া দিয়ে আয়
বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রজেক্টর ও স্ক্রিন ভাড়া দিয়েও আয় করতে পারেন। এ জন্য কমপক্ষে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এ সময়টাতে প্রতিদিন ১৫০০-২০০০ টাকা আয় করা সম্ভব। তবে নতুন বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিশ্বকাপ চলাকালীন বিনিয়োগের টাকা উঠে আসার সম্ভাবনা কম। যদি পরবর্তী সময়ে এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান, সে ক্ষেত্রেই কেবল নতুন করে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

 

বিশ্বকাপ সামনে রেখে পতাকা ও জার্সি বিক্রির ব্যবসা সবচেয়ে বেশি লাভজনক। চলেও দেদার। বাজার থেকে পাইকারি দরে পতাকা ও জার্সি কিনে বিক্রি করতে পারেন। আবার দর্জিকে দিয়ে অল্প খরচে বানিয়েও বিক্রি করতে পারেন। নিজের দোকান থাকলে তো কথাই নেই। যে ধরনের দোকানই হোক না কেন, এ সময়টাতে জার্সি-পতাকা রাখতে পারেন। দোকানের সামনে কিছু পতাকা ও জার্সি ঝুলিয়ে রাখলে ভালো হয়। শহরের বিভিন্ন শপিং মলের খেলাধুলার দোকান ছাড়াও পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করেও আয় করতে পারেন। বিক্রি করতে পারেন বিশ্বকাপের রেপ্লিকা, ফুটবল, স্টিকার, ব্যান্ডানা, বিশ্বকাপের মাসকট পুতুল, তারকা খেলোয়াড়দের ছবি প্রিন্ট করা মগ, চাবির রিং, ক্যাপ, মাথায় বাঁধার রুমাল, ব্রেসলেট, বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলার সময়সূচিসহ অনেক কিছু।

পতাকা ও জার্সিতে বাজিমাত

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইতালি, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের পতাকা ও জার্সির চাহিদা বেশি। পতাকার দাম নির্ভর করবে আকার ও কাপড়ের মানের ওপর। ৫ ফুট বাই সাড়ে তিন ফুট পতাকা ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারেন। ৪ ফুট বাই আড়াই ফুট পতাকা বিক্রি করতে পারেন ৮০-১০০ টাকায়। এ ছাড়া হাতে বহন করার পতাকা বিক্রি করতে পারেন ১০ টাকায়। বাজার থেকে পাইকারি দামে কাপড় কিনে দর্জিকে দিয়ে পতাকা বানালে খরচ কম পড়বে।

থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা জার্সির দাম ৫০০ টাকা থেকে শুরু এবং চীন থেকে আমদানি করা জার্সির দাম ৩০০ টাকা থেকে শুরু। দেশে তৈরি জার্সির দাম ২৫০ টাকা থেকে শুরু। মূলত কাপড়ের মানের ওপর নির্ধারিত হয় জার্সির দাম। চাইলে স্থানীয় বাজার থেকে কম দামে কাপড় কিনেও জার্সি তৈরি করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি পতাকায় গড়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকবে। আর প্রতি জার্সিতে লাভ থাকবে ৪০-৭০ টাকা।

স্ক্রিনপ্রিন্ট করে আয়

অনেক ফুটবলপ্রেমী জার্সিতে নিজের নাম ও পছন্দের নম্বর স্ক্রিনপ্রিন্ট করাতে চান। এতে খরচ হবে ২০০-৩০০ টাকা। কোনো প্রিন্টিং প্রেসের সঙ্গে আলোচনা করে পাশাপাশি এ কাজটিও করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি পিস জার্সিতে লাভ থাকে ১০-২০ টাকা। মগে তারকা খেলোয়াড়দের ছবি স্ক্রিনপ্রিন্ট করে বিক্রি করে আয় করতে পারেন। প্রতিটি মগ ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি করলে ২০-৩০ টাকা লাভ করা সম্ভব। প্রিন্টিং ব্যবসায় জড়িত থাকলে এ সময়টাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলার সময়সূচি প্রিন্ট করে বিক্রি করে বাড়তি কিছু আয় করতে পারেন। পোস্টকার্ড, ট্যাবলেট ও ক্যালেন্ডার সাইজের বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়সূচি ছাপিয়ে যথাক্রমে ৫, ১৫ ও ২৫ টাকায় বিক্রি করতে পারেন।

বিশ্বকাপের রেপ্লিকা, মাসকট

বসুন্ধরা শপিং মল, গুলশান ডিসিসি মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিং মলে পাওয়া যায় সোনালি ও রুপালি রঙের বিশ্বকাপের রেপ্লিকা। আকারভেদে পাইকারি দাম ৪৫০-৭০০ টাকা। খুচরা বিক্রি করে প্রতিটিতে লাভ থাকতে পারে ১০০-১৫০ টাকা।

ফেভারিট দলের পতাকা, নাম ও লোগোসংবলিত ক্যাপ পাওয়া যাবে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে এবং ৬০-৮০ টাকায় পাইকারি দামে কেনা যাবে প্লাস্টিকের টুপি। ব্রেসলেট কেনা যাবে ৪০-১০০ টাকায়। ব্যান্ডানার দাম পড়বে ৮০-১০০ টাকা। এসব পণ্যে গড়ে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকতে পারে। বিশ্বকাপ ফুটবলেরও চাহিদা আছে। আকার ও মানভেদে প্রতিটি ফুটবলের পাইকারি দাম পড়বে ৫০০-২০০০ টাকা। বিশ্বকাপের মাসকট কেনা যাবে ১৫০-৩০০ টাকায়। এসব পণ্যেও ভালো লাভ থাকে।

গাড়িতে বিশ্বকাপের ছোঁয়া

বিশ্বকাপ উপলক্ষে গাড়ির ভেতরের সাজসজ্জার জন্য বিভিন্ন দেশের পতাকা আঁকা হেড পিলো ও সিটবেল্ট বিক্রি করতে পারেন। প্রতি পিস হেড পিলোর দাম ৩৫০ টাকা থেকে শুরু। সিটবেল্টের দাম পড়বে ১৮০-২০০ টাকা। এ দুটো পণ্য থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে। এ ছাড়া স্প্রিংয়ের মাসকট কেনা যাবে ৩০০ টাকায়। চাবির রিংয়ের দাম পড়বে ৮০-১২০ টাকা। গাড়িতে ফেভারিট দলের মেটাল স্টিকার লাগিয়েও আয় করতে পারেন। দাম পড়বে ২০০-৩০০ টাকা। মাসকট, চাবির রিং ও স্টিকারে গড়ে লাভ থাকবে ২০-৫০ টাকা। তবে যাঁরা গাড়ি ডেকোরেশনের ব্যবসা করেন, তাঁদের জন্য এই ব্যবসা নিরাপদ।

ঘরে বসেই ব্যবসা

অনলাইনে ঘরে বসেই করতে পারেন এ ব্যবসা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বা নিজস্ব ই-কমার্স সাইট হতে পারে মাধ্যম। বিভিন্ন দেশের পতাকা, জার্সি, রেপ্লিকাসহ বিভিন্ন পণ্যের ছবি ও মূল্যতালিকা রাখতে পারেন এতে। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে অর্ডার নেওয়া ও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিনা মূল্যে হোম ডেলিভারি দিয়েও প্রতিটি পণ্যে ১০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।

প্রজেক্টর ও স্ক্রিন ভাড়া দিয়ে আয়

বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রজেক্টর ও স্ক্রিন ভাড়া দিয়েও আয় করতে পারেন। এ জন্য কমপক্ষে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এ সময়টাতে প্রতিদিন ১৫০০-২০০০ টাকা আয় করা সম্ভব। তবে নতুন বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিশ্বকাপ চলাকালীন বিনিয়োগের টাকা উঠে আসার সম্ভাবনা কম। যদি পরবর্তী সময়ে এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান, সে ক্ষেত্রেই কেবল নতুন করে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/feature/a2z/2014/06/09/94027#sthash.PFw5i2EE.dpuf

Comments

comments

Comments are closed.