প্রচ্ছদ > শিক্ষা > মডেল টেস্ট > জেএসসি প্রস্তুতি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র
জেএসসি প্রস্তুতি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

জেএসসি প্রস্তুতি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

পাঠ প্রস্তুতি

সারাংশ বা সারমর্ম

১। ছোট ছোট বালুকণা…..স্বর্গসুখ নিত্য দেয় আনি।

সারমর্ম : কোনো ক্ষুদ্র বস্তুই তুচ্ছ নয়। সহস্র ক্ষুদ্রের সমন্বয়েই বৃহতের সৃষ্টি। ত্রুটি কিংবা অপরাধ ক্ষুদ্র হলেও ক্রমে তা পাপের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং এর পরিণাম হয় ভয়ংকর। অন্যদিকে করুণা ও স্নেহের ক্ষুদ্র বাণী এ মাটির পৃথিবীতে স্বর্গের সুখ এনে দিতে পারে।

২। শৈশবে সদুপদেশ যাহার না…..না আসিলে ফিরে।

সারমর্ম : জীবনে সার্থকতা অর্জনের জন্য ছেলেবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। সময়ের কাজ সময়ে না করতে পারলে তার জন্য জীবনে মূল্য দিতে হয়। কারণ সুযোগ একবার চলে গেলে তা আর ফিরে না-ও আসতে পারে। তখন অনুশোচনা করেও আর লাভ হবে না।

৩। মাতৃস্নেহের তুলনা নাই। কিন্তু অতি স্নেহ……

সারাংশ : মাতৃস্নেহ অতুলনীয় হলেও তার মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয়ে সন্তান পরনির্ভরশীল ও আত্মশক্তিহীন হয়ে পড়ে। ফলে তা মনুষ্যত্ব বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অন্ধ মাতৃস্নেহ শেষ পর্যন্ত সন্তানের অমঙ্গলের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

৪। কোনো সভ্য জাতিকে অসভ্য করার ইচ্ছা যদি তোমার থাকে, তা হলে তাদের সব বই ধ্বংস করো এবং সব সমাজবিজ্ঞান……

সারাংশ : লেখক ও পণ্ডিত ব্যক্তিরাই দেশ ও জাতির পথপ্রদর্শক। কোনো সভ্য জাতির সাহিত্য ধ্বংসের মাধ্যমে জাতিকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব। জাতির পথ নির্দেশনা এই সাহিত্যে বিদ্যমান। তাই জাতির অগ্রগতিকে আরো গতিশীল করার জন্য সাহিত্যের মাধ্যমে জাতির মনে অনুপ্রেরণা দিতে হবে।

৫। শ্রমকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করো। কালি-ধূলির মাঝে, রৌদ্রবৃষ্টিতে কাজের ডাকে নামিয়া যাও। বাবু হইয়া……

সারাংশ : কায়িক শ্রম মানুষের মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটায়। শ্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হওয়া যায় না। চিন্তা ও পুস্তক জ্ঞানের যে দ্বার উন্মোচন করে, তা পূর্ণতা পায় কায়িক শ্রমে। এ জন্য শ্রমকে শ্রদ্ধা করা উচিত।

৬। দণ্ডিতের সঙ্গে দণ্ডদাতা……তুমি তার কাছে।

সারমর্ম : অপরাধপ্রবণতা মানুষের জন্মগত প্রবৃত্তি নয়। কাজেই কোনো অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার আগে বিচারককে আন্তরিক ও সহমর্মী হওয়া উচিত। যে বিচারক দণ্ড দিতে গিয়ে অপরাধীর প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং নিজেকে দণ্ডিত ব্যক্তির অতি কাছের মানুষ ভেবে ব্যথিত হন, তাঁর বিচারই হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার।

৭। পরের মুখে শেখা বুলি……কোথাও পাবি না রে।

সারমর্ম : নিজস্বতাই মানুষের যথার্থ পরিচয় ও আত্মপ্রতিষ্ঠার ভিত্তিভূমি। পর ভাষা ও ভূষণ অনুসরণ করে মানুষ ‘নকল’ মানুষ হয়ে উঠতে পারে। এতে মানুষের কোনো মর্যাদা নেই, বরং নিজেরই অমর্যাদা ঘটে। আপন মূল্যবোধ ও সত্তাকে ধারণ করেই মানুষ সত্যিকার প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদা লাভ করতে পারে। অনুকরণ সর্বদাই নিন্দনীয়।

৮। তুমি জীবনকে সার্থক সুন্দর করিতে চাও? ভালো কথা। কিন্তু……সুন্দর হইয়া উঠিবে।

সারাংশ : জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করার প্রধান উপায় হলো কঠোর পরিশ্রম। সব বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করার দৃপ্ত চেতনাই পারে জীবনকে সার্থক করতে। নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দানবটির বিনাশ সাধনই জীবনের সার্থক ও সুন্দর সূর্যোদয় ঘটাতে পারে।

৯। নিন্দা না থাকিলে পৃথিবীতে জীবনের গৌরব কি থাকিত? ……দেওয়াও একটা মস্ত কাজ।

সারাংশ : মানবজীবনকে সুন্দর, সফল ও গৌরবময় করার জন্য নিন্দা বা সমালোচনার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভালো কাজ, উত্তম গ্রন্থ, মহৎ ধর্মচর্চা- সব কিছুই নিন্দার কষ্টিপাথরে যাচাই করে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে। নিন্দা সহ্য করার মধ্যে গৌরব নিহিত। কারণ নিন্দা যেমন দোষীকে সংশোধনের সুযোগ দেয়, তেমনই মহত্ত্বের গৌরবও প্রকাশ করে।

১০। আমার একার সুখ, সুখ নহে ভাই……এসো বন্ধু, এ জীবন সুমধুর করি।

সারমর্ম : অন্যকে সুখ দিতে পারলেই প্রকৃত সুখের সন্ধান পাওয়া যায়। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে অন্যের সুখ-দুঃখকে নিজের করে নিতে পারলেই এ সংসারে প্রকৃত সুখের স্বাদ পাওয়া যায়। প্রকৃত সুখ স্বীয় জীবন ভোগে নয়, সবাইকে নিয়ে হৃদয়-বিনিময়ে।

পড়ালেখা বিষয়ক যেকোন পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করো:: ইনফোপিডিয়া

মো. সুজাউদ দৌলা
প্রভাষক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ
উত্তরা, ঢাকা

Share and Enjoy !

0Shares
0 0 0

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*