প্রচ্ছদ > শিক্ষা > পড়ালেখা > এসএসসি পরীক্ষা ২০১৫ : সৃজনশীল গণিতে ভয়ের কিছু নেই
এসএসসি পরীক্ষা ২০১৫ : সৃজনশীল গণিতে ভয়ের কিছু নেই

এসএসসি পরীক্ষা ২০১৫ : সৃজনশীল গণিতে ভয়ের কিছু নেই

এ বছর প্রথমবারের মতো এসএসসিতে সৃজনশীল পদ্ধতিতে গণিত পরীক্ষা হবে। কীভাবে ভালো করবে? এ বিষয়ে দরকারি সব পরামর্শ দিয়েছেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের প্রভাষক এবং মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের সাবেক প্রভাষক মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন

বীজগণিত থেকে তিনটি, জ্যামিতি থেকে তিনটি, ত্রিকোণমিতি থেকে দুটি এবং পরিসংখ্যান থেকে একটিসহ মোট ৯টি প্রশ্ন থাকবে। এর মধ্যে বীজগণিতের দুটি, জ্যামিতির দুটি, ত্রিকোণমিতির একটি এবং পরিসংখ্যান থেকে একটিসহ মোট ছয়টি প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই করতে হবে। প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নে তিনটি ধাপ থাকবে, ক-তে ২ নম্বর, খ এবং গ উভয়ে ৪ করে মোট ১০ নম্বর।
বীজগণিতের প্রথম তিনটি অধ্যায় থেকে একত্রে একটি, চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায় থেকে একটি এবং একাদশ, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ থেকে একটি প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে কোনো অধ্যায়ই বাদ দেওয়া যাবে না, কেননা প্রশ্নকর্তার ইচ্ছানুযায়ী একটি সৃজনশীল প্রশ্ন কয়েকটি অধ্যায় মিলিয়ে হতে পারে। ক অংশে সংক্ষেপে সমাধান করা যায় এমন প্রশ্ন দেওয়া থাকবে। খ ও গ অংশে একটু বড় প্রশ্ন থাকবে।
জ্যামিতি থেকে উপপাদ্য ও সম্পাদ্য মিলিতভাবে প্রশ্ন থাকবে। বই থেকে সরাসরি কোনো প্রশ্ন থাকবে না। সম্পাদ্যের চিত্র সূক্ষ্ম পেনসিল দিয়ে এঁকে চিহ্নিত ও নামকরণ করবে। সুন্দর চিত্র পুরো নম্বর পেতে সহায়ক হবে।
ত্রিকোণমিতি ও পরিমিতির যেকোনো একটি অংশ ভালোভাবে পড়বে। তবে দুই অংশই পড়তে হবে, যাতে যে অংশ থেকে প্রশ্ন সহজ হবে তা যেন উত্তর করতে পারো। যে প্রশ্নে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে তা-ই উত্তর করবে। উভয় অংশ থেকেই এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে, তাই কিছুই বাদ দেওয়া যাবে না।
পরিসংখ্যানে একটি প্রশ্নই দেওয়া থাকবে-তা উত্তর করতে হবে। এ বিভাগে কোনো ‘অথবা’র সুযোগ নেই। মোটামুটি পুরোটাই পড়ে যেতে হবে, তাহলে প্রশ্নের উত্তর করতে কোনো অসুবিধা হবে না।
বহু নির্বাচনীতে ৪০টি প্রশ্ন থাকবে। পুরো বইয়ের যেকোনো অংশ থেকেই প্রশ্ন হতে পারে। একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দও বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রত্যেক অধ্যায়ে যে ছোট অংক ও লাইনগুলো বেশি প্রয়োজনীয় মনে করবে, তা রঙিন কালি দিয়ে চিহ্নিত করে রাখবে। এতে পরীক্ষার আগে সব দরকারি তথ্য একবারে দেখে যাওয়া সম্ভব হবে। গাণিতিক সমস্যাগুলো কম সময়ে সমাধানের পদ্ধতি মনে রাখবে। রাফ করার জন্য কোনো আলাদা কাগজ ব্যবহার করা যাবে না, রচনামূলক প্রশ্নের ফাঁকা অংশে প্রয়োজনমতো পেনসিল দিয়ে রাফ করবে, যেন ভুল হলে মুছে আবার করা যায়। সঠিক উত্তরের বৃত্ত ভরাট করার ক্ষেত্রে খুব মনোযোগী থাকবে, যেন ভুল বৃত্ত ভরাট না হয়ে যায়।
বিগত বছরে গণিত পরীক্ষা সৃজনশীল পদ্ধতিতে না হওয়ায় বোর্ড প্রশ্নের ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রতিটি বোর্ড থেকে গণিতের যে নমুনা প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে, তা সমাধান করবে। টেস্ট পেপার থেকে সেরা স্কুলগুলোর প্রশ্নের সমাধান করতে ভুলবে না। যত বেশি প্রশ্ন সমাধান করবে, ততই অভিজ্ঞতা বাড়বে। বেশি চর্চা ছাড়া ভালো ফল সম্ভব নয়।
নতুন হওয়ায় সৃজনশীল গণিত নিয়ে অনেকের মনেই একটা ভয় থাকে। ভয়ের কোনো কারণ নেই, সাধারণ নিয়মে অংক সমাধান করতে পারলেই সৃজনশীল প্রশ্নের সহজেই সমাধান করতে পারবে। প্রথমে যে প্রশ্ন ভালো পারবে তাই উত্তর করবে, কঠিন মনে হলে পরে উত্তর করবে। একটি প্রশ্নের পেছনে অনেক সময় নষ্ট করা যাবে না। কোনো অংকের উত্তর সম্পূর্ণ সমাধান না করতে পারলেও ছেড়ে আসা যাবে না, প্রতিটি ধাপের জন্যই আলাদা নম্বর বণ্টন করা আছে। যতটুকু নির্ভুল উত্তর করবে ঠিক তার জন্যই নম্বর পাবে।
উত্তরপত্র কাটাছেঁড়া, ওভাররাইটিং ছাড়া যত পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করবে শিক্ষক ততই সন্তুষ্ট হবে। সময়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রশ্নের উত্তর করা যায়। নিয়মিত প্রস্তুতি এবং পরীক্ষার হলে সময়ের প্রতি দৃষ্টি রাখলে গণিতে A+ পাওয়া তোমাদের জন্য কোনো ব্যাপারই না।

Comments

comments

Comments are closed.