প্রচ্ছদ > লাইফস্টাইল > টিপস > গিটার শেখার কায়দা-কানুন
গিটার শেখার কায়দা-কানুন

গিটার শেখার কায়দা-কানুন

আমাদের প্রিয় বাদ্যযন্ত্রের তালিকায় খুব সহজেই ছয় তারের গিটারের নাম এসে পরে । গিটার বাদ্যযন্ত্রটি বাজানোর ক্ষেত্রে অনেক আগে থেকেই এর ব্যাবহার চলে আসছে । লেখক মরিস জে. সামারফিল্ড এর মতে স্পেনে ৪০০ খ্রিস্টাব্দে রোমানরা ” সিথারা ” নামক একটি বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আসেন, যা থেকেই গিটার বাদ্যযন্ত্রটির উদ্ভব । আরবরা “উদ” নামে একটি বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করত। তবে আবার অনেকে ধারণা করেন, চার তার সম্বলিত “তানবুর” নামক বাদ্যযন্ত্র থেকে গিটার  বাদ্যযন্ত্রটির উদ্ভব। খ্রিস্টপূর্ব ১৪০০ শতকে বর্তমান সিরিয়ায় “হিটরাহিট” নামক এক জাতি বাস করত, তারা এই “তানবুর” বাজাত। গ্রিকরাও এমন একটি বাদ্যযন্ত্র তৈরি করেছিলেন যা থেকে পরবর্তীতে রোমানরা ” সিথারা ” নামক বাদ্যযন্ত্রটি তৈরি করেন ।

“তানবুর”,”উদ” ও “সিথারা” এর থেকেই মূলত গিটারের উদ্ভব । ১২০০ সালে চার তার বিশিষ্ট গিটারের দুটি রুপ বের হয় ,যার একটি হচ্ছে – “মূরিশ গিটার”। যার পিছনের দিক গোলাকার, একটু কম প্রশস্ত ফ্রেটবোর্ড এবং বেশ কয়েকটি সাউন্ড হোল ছিল। অপরটি হচ্ছে -“ল্যাটিন গিটার”। যার ছিল একটি সাউন্ড হোল ও প্রশস্ত ফ্রেটবোর্ড । ১৭৮৮ সালের দিকে এসে জেকব অটো নামে একজন জার্মান বাদ্যযন্ত্রনির্মাতা পাঁচ তার বিশিষ্ট গিটারে ৬ষ্ঠ তার সংযোজিত করেন যা পরবর্তীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এরপর ১৯ শতকে শুরুতে স্পেনের অগাস্টিন কারো, ম্যানুয়াল গিটারেজ এবং অন্যান্য ইউরোপিয়ান গিটার প্রস্তুতকারক গিটারকে বর্তমান রুপ দেন, যা বর্তমানে সকলে ব্যবহার করছে।

গিটারের প্রাথমিক পরিচিতিঃ

গিটার একটি বহুল পরিচিত এবং প্রচলিত বাদ্যযন্ত্র। এটি মূলত তারের উপর নির্ভরশীল একটি বাদ্যযন্ত্র। মূলত গিটার তিন প্রকার। যেমনঃ

১) স্প্যানিশ গিটার

২) হাওয়াইয়ান গিটার

৩) বেস গিটার

আবার অনেকের মতে গিটার প্রধাণত ২ প্রকার।

১) স্টীল স্ট্রীং গিটার

২) নাইলন স্টীং গিটার

আবার ফ্ল্যামেনকো গিটার নামের এক জাতের গিটার আছে । এ ছাড়া নানা নামের গিটার রয়েছে কিন্তু সাবমেনুর মত । যেমন স্টীল স্ট্রীং গিটার এর সাব মেনুর মত কিছু গিটার রয়েছে যেমন – রীদম, লিট, বেজ, হাওয়াইন গিটার। তো এই থেকে বোঝা যায় সাব মেনুর মত সাব গিটার রয়েছে নানা প্রকারের।

স্প্যানিশ গিটার একটি ওয়েস্টার্ন মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট এবং এটি খুবুই জনপ্রিয় । বাংলাদেশে অনেকে এই গিটার নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও ৭০ দশকে গুরু আজম খান, ও ফকির আলমগীর বাংলা গানের জগতের নতুন ধারা সৃষ্টি করেন পপ ব্যান্ড ।এই থেকে শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশে স্প্যানিশ গিটার এর প্রভাব ।

এই স্প্যনিশ গিটারেও ভাগ রয়েছে ।

১) এ্যাকোস্টিক

২) ক্লাসিক্যাল

৩) ইলেকট্রিক বা বৈদ্যুতিক

এ্যাকোস্টিক গিটারঃ

এ্যাকোস্টিক গিটারের অংশগুলো হল বডি (Body), সাউন্ড হোল (Sound hole), ফ্রেট বোর্ড (Fret Board), নেক (Neck), ব্রিজ (Bridge) ও হেডস্টক (Headstock)। এর তারগুলো ধাতুর তৈরি। এ্যাকোস্টিক গিটারের শব্দ তৈরি হয় সাউন্ড হোল এর মাধ্যমে। তারের কম্পন গিটারের বডির ভেতর প্রতিধ্বনিত হয় এবং সাউন্ড হোল এর মাধ্যমে প্রকাশ পায়। কিছু এ্যাকোস্টিক গিটার রয়েছে যাদের বডির অভ্যন্তরে পিক-আপ থাকে, যা দ্বারা এমপ্লিফায়ার এর সহায়তায় এর ধ্বনিকে বর্ধিত করা যায়।

ক্লাসিক্যাল গিটারঃ

এটি দেখতে অনেকটা এ্যাকোস্টিক গিটার এর মতই, তবে তারগুলো মূলত নাইলনের তৈরি।

ইলেকট্রিক বা লীড গিটারঃ

লীড গিটারে কোনও সাউন্ড হোল থাকে না। এর সুর তৈরি হয় পিক-আপ (Pickup) এর মাধ্যমে। লীড গিটার বাজানোর জন্য এমপ্লিফায়ার (Amplifier) অত্যাবশ্যক। প্রসেসর (Processor) এর মাধ্যমে এর সুরে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা যায়। ইলেকট্রিক গিটার তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের মূলনীতিতে এর তারের কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে পরিণত করে। উৎপন্ন সংকেত খুবই দূর্বল থাকে লাউডস্পিকারকে চালানোর জন্য, এজন্য একে লাউডস্পিকারে পাঠানোর আগে বিবর্ধিত করে পাঠানো হয়। যেহেতু ইলেকট্রিক গিটারের উৎপন্ন সংকেত বৈদ্যুতিক, তাই বৈদ্যুতিক বর্তনী ব্যবহার করে শব্দে রঙ চড়ানো যায়। রিভার্ব ও ডিসটর্সন ইফেক্ট ব্যবহার করে সংকেতকে পরিমিত করা যায়।২০ শতকে ইলেকট্রিক গিটার ছাড়া অন্য কোন বাদ্যযন্ত্র সংগীতে এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। ১৯৩১ সালে জ্যাজ সঙ্গীতে ইলেকট্রিক গিটার একটি প্রয়োজনীয় বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হয়। রক এ্যান্ড রোলের উন্নয়নে ও অগণিতসঙ্গীত ধারার উন্নতিতে ইলেকট্রিক গিটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্চটপ এ্যাকুস্টিক গিটার সর্বপ্রথম জ্যাজ সঙ্গীতে ব্যবহৃত হয় তড়িৎচুম্বকীয় ট্রান্সডিউসারের সাথে। ১৯৩২ সালে বাণিজ্যিকভাবে বৈদ্যুতিকভাবে বিবর্ধিত গিটার বাজারে পাওয়া যেতে থাকে। ১৯৩৬ সালে গিবসন প্রথম ইএস-১৫০ মডেলের ইলেকট্রিক গিটার বাজারে ছাড়ে। ইএস মানে ইলেকট্রিক স্প্যানিশ ও ১৫০ ডলার হলো দাম। ইলেকট্রিক গিটারের নানা রকম প্রকারভেদ আছে। ডাবল নেক গিটার গিটারিস্টকে একই সাথে গিটার ও বেজ গিটার বাজানোর সুযোগ দেয়। গিটারে তখন বারটি তার থাকে। জন ম্যাকলাফলিন প্রথমদিকে এটা ব্যবহার করে। পরে এটা জনপ্রিয়তা পায় জিমি পেজের মাধ্যমে যিনি গিবসন ইডিএস-১২৭৫ মডেলের গিটার ব্যবহার করেন স্টেয়ার ওয়ে টু হ্যাভেন গান গাওয়ার জন্য। ডন ফেল্ডারও তার হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া সফরে গিবসন ইডিএস-১২৭৫ মডেলের গিটার ব্যবহার করেন। জনপ্রিয়সঙ্গীত ও রক মিউজিকে ইলেকট্রিক গিটার দু’ভাবে ব্যবহা করা হয়। রিদম গিটার হিসেবে ও লিড গিটার হিসেবে যাতে মেলোডি লাইনগুলো ও গিটার সলোতে ব্যবহৃত হয়।

পপ ও রক সংগীতে এ্যাকুস্টিক গিটারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আছে ইলেকট্রিক গিটার স্টুডিও ও সরাসরি মঞ্চ পরিবেশনায়, বিশেষ করে হেভি মেটাল ও হার্ডরক ধারায়। কান্ট্রি, ওয়েস্টার্ন ও বিশেষ করে ব্লু গ্রাস মিউজিকে এ্যাকুস্টিক গিটার এখনো প্রথম পছন্দ শিল্পীদের এবং খুব বেশি ব্যবহৃত হয় ফোক মিউজিকে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ডিজিট্যাল ও সফটওয়ার ইফেক্টের মাধ্যমে অ্যানালগ ইফেক্ট-এর মতো আমেজ আনা যায়। অনেক ফ্রি গিটার ইফেক্ট আছে ইন্টারনেটে ডাউনলোড করার জন্য। যদিও ডিজিট্যাল ও সফটওয়ার ইফেক্টের অনেক সুবিধা আছে, তারপরও অনেক গিটারিস্ট এখনো অ্যানালগ ইফেক্টই ব্যবহার করেন। ১৯৬০-এর দশকে অনেক কিছু গিটারিস্ট চেস্টা করেন আরো বেশি রেঞ্জের ডেস্টোর্টিং ইফেক্ট ব্যবহার করতে। তারা ওভারড্রাইভ ব্যবহার করেন গেইন বাড়ানোর জন্য। এই এফেক্টকে ক্লিপিং বলেন শব্দ প্রকৌশলীরা। কারণ তারা অসিলোস্কোপে সংকেতের তরঙ্গচিত্র দেখে বোঝেন যে তরঙ্গের চূড়া কাঁটা যাচ্ছে ও প্রায় স্কয়ার ওয়েভের মতো দেখাচ্ছে। ২০০০ সহস্রাব্দে ৭টি তারের গিটার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। স্লেয়ার, ফিয়ার ফ্যাকটরি, কর্ন, লিংকিন পার্ক ইত্যাদি ব্যান্ড এ ধরনের গিটার ব্যবহার করতে থাকে। কর্ন ব্যান্ডের মাঙ্কি ৭টি তারের ইবসেন গিটার ব্যবহার করে ও গুজব ওঠে যে সে ৮ তারের গিটার বানানোর পরিকল্পনা করছে।

গিটারের বিভিন্ন অংশঃ

  • হেডস্টক
  • টিউনার
  • নাট
  • ফ্রেটস
  • ফ্রেটবোর্ড
  • সাউন্ড হোল
  • স্ট্রিংস
  • পিক গার্ড
  • সাউন্ড বোর্ড
  • পিক-আপস
  • ব্রিজ
  • ভলিউম অ্যান্ড টোন কন্ট্রোল

গিটার অনেক ধরনের আছে। দোকানে বেশি ভাগ ক্ষেত্রে স্প্যানিশ গিটার পাওয়া যায়। স্প্যানিশ গিটার একটি ওয়েস্টার্ন মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট। তবুও বিশ্বের সকল দেশেই সংগীতের জগতে এই বাদ্যযন্ত্রটির চাহিদা ব্যাপক । আমাদের তরুণ সমাজের সংগীত শ্রোতাদের মধ্যে গিটার শেখার প্রতি চরম একটি আগ্রহ দেখা যায়।

গিটার শেখার কিছু কৌশলঃ

  • গিটার শেখার জন্য প্রথমত আপনার দরকার হবে একটি একষ্টিক গিটার। বাজারে বিভিন্ন মানের একষ্টিক গিটার পাওয়া যায়। আপনি ৪০০০-৬০০০ এর মধ্যে একটি ইন্ডিয়ান গিটার দিয়ে শুরু করতে পারেন। আপনার বাজেট যদি একটু কম হয় তাহলে ১৫০০-২৫০০ এর মধ্যে বাংলাদেশী গিটার দিয়েও শুরু করতে পারেন।
  • গিটারের নোট বলতে মূলত সুর কে বুঝানো হয় । বাংলায় আমরা যেটাকে সা, রে, গা, মা, পা, ধা , নি  দিয়ে সম্বোধন করি , ইংরেজিতে সেটাকে C D E F G A B  এভাবে সম্বোধন করা হয়।  গিটার যেহেতু একটি বিদেশী বাদ্যযন্ত্র , তাই এর ইংরেজি গ্রামার ব্যাবহার করলেই শিখতে সুবিধা হয়।
  • সাইন গুলোর পাশাপাশি নিচের নোট সিরিয়ালটিও মুখস্থ করে নিন। এটি অবশ্যই কাজে লাগবে।

A–A#–B–C–C#–D–D#–E–F–F#–G–G#–A

[B এবং E এর কোন # (শার্প) নোট হয়না]

  • টিউনিং হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় গিটারের স্ট্রিং (তার) গুলোকে টাইট করা। যাতে সঠিক সুর টি আসে। টিউনিং ছাড়া গিটার দিয়ে কখন কোন সঠিক সুর তোলা সম্ভব নয়।  টিউনিং হলো মিউসিক সেন্স এর ব্যপার। এবার আপনার গিটারের তার গুলোকে হেডস্টক এর টিউনারগুলোকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সাউন্ড ঠিক করতে হবে।
  • গিটারের ফিঙ্গার বোর্ডের বিভিন্ন ফ্রেটস এ আঙ্গুল রেখে বাজালে কোন সুর (note) টি বাজবে সেটি মনে রাখতে হবে। যখন ফিঙ্গার বোর্ডে কোনরুপ আঙ্গুল না দিয়ে বাজালে তখন ওপেন নোটগুলো বাজবে।
  • গিটার শেখার সময় পিক দিয়ে এবং পিক ছাড়া উভয় ভাবে বাজানোর প্রাক্টিস করতে হবে। পিক হচ্ছে ছোট্ট একটি প্লাস্টিকের ত্রিভুজ আকৃতির খণ্ড, যা দিয়ে গিটার বাজানো হয়। প্র্যাকটিসের সময় চিন্তা করতে হবে – কি বাজানো হচ্ছে, কেমন সাউন্ড হচ্ছে এবং তা আপনার পছন্দ হচ্ছে কি না? যখন বিরক্ত লাগবে, তখন হালকা রেস্ট নিয়ে আবার শুরু করতে হবে।  ভাল গিটারিস্ট হতে হলে অবশ্যই প্রচুর প্র্যাকটিস করতে হবে।
  • ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ড মিউজিকাল সিস্টেমে ইংলিশ অ্যালফাবেট এর প্রথম সাতটি বর্ণ নোট অথবা সাউন্ড এর পিচ রূপে ব্যবহৃত হয়। বর্ণগুলি হল – A B C D E F G । ঐতিহাসিক কারণে বর্ণ গুলো কীবোর্ড অথবা হারমোনিয়ামে শুরু হয় C থেকে। অর্থাৎ এভাবে- CDEFGABC. তাই বেশি ভাগ ক্ষেত্রেই গিটারেও এই রুলটি ব্যবহার করা হয়।

নোটঃ

     নিদিষ্ট সাউন্ড বা স্বরকে নোট বলে । নোট মোট ১২টি যথা—

       C-C#-D-D#-E-F-F#-G-G#- A- A#-B

     অথবা এভাবে বলা যায় –

       A#-B -C-C#-D-D#-E-F-F#-G-G#

অকটেভঃ

একটি নোট থেকে একই নামের আরেকটি নোট এর দূরত্বকে অকটেভ বলা হয়। যেমন- A B C D E F G A – দেখুন এখানে A টি সব নোট শেষে করে আবার A কে টাচ করেছে। এটি একটি অকটেভ।

ফিঙ্গারিং প্রাক্টিসঃ

১) একবার সামনে থেকে পিছেনে আবার পিছন থেকে সামানে। খেয়াল রাখতে হবে যেন নোট বা সাউন্ড ক্লিয়ার ভাবে আসে।

——>

<——

String 6 |——|——-|——-|—-1—-|—-2—|—-3–|—-4—|——-|——–|——-|

String 5 |——|——-|——-|—-1—-|—-2—|—-3–|—-4—|——-|——–|——-|

String 4 |——|——-|——-|—-1—-|—-2—|—-3–|—-4—|——-|——–|——-|

String 3 |——|——-|——-|—-1—-|—-2—|—-3–|—-4—|——-|——–|——-|

String 2 |——|——-|——-|—-1—-|—-2—|—-3–|—-4—|——-|——–|——-|

String 1 |——|——-|——-|—-1—-|—-2—|—-3–|—-4—|——-|——–|——-|

২) একঘর করে প্রতি স্ট্রিং এ আগাতে হবে

 ——>

<——

String 6 |—1–|–2– -|—3—|— -4–|—–  – |—–  -|—–  –|—-  —|– — —-|——-|

String 5 |——-|—1– |—-2–|—-3—|—4—-|—-  –|—-  —|—-  —|—–  —|——-|

String 4 |——  |——-  |—-1–|—-2—|—-3—|—4—|——  -|—-  —|—– – –|——-|

String 3 |——  |——-  |——-  |—-1– |—2—-|—3—|—4—-|—-  —|—- – —|——-|

String 2 |——  |——-  |——  -|——–  |—-1—|—-2–|—3—-|—4—-|—– — -|——-|

String 1 |——  |——  -|——  -|——  –|——  – |—-1–|—2—-|—3—-|—4—–|——-|

কর্ড ধরার পদ্ধতি – পাওয়ার কর্ড অথবা ফিফথ কর্ডঃ

পাওয়ার কর্ড কে ফিফথ কর্ডও বলা হয়। পাওয়ার কর্ড এমন এক ধরনের কর্ডকে বলা হয়, যে কর্ডে কর্ডের রুট নোট এবং পঞ্চম নোট ধরে বাজানো হয়। সাধারণত ইলেকট্রিক গিটারে পাওয়ার কর্ড বাজিয়ে সাউন্ড মডুলেটর ডিভাইসের সাহায্যে ইফেক্ট আনা হয়। আমরা বর্তমান রক মিউজিকে প্রচুর পাওয়ার কর্ডের ব্যবহার লক্ষ্য করি। আরও ভালোভাবে বুঝার জন্য আর্টসেল ব্যান্ডের  “আর্তনাদ” গানটির দিকে দৃষ্টিপাত করতে পারি। গানটি প্রথমেই শুরু হয় পাওয়ার কর্ড এর ব্যবহারের মাধ্যমে। এখানে সাউন্ডের ইফেক্ট করা হয়েছে। বস্তুত পাওয়ার কর্ড বাজানো ,নরমাল কর্ড বাজানোর থেকে অনেক সহজ। মাত্র তিনটি নোট ধরলেই পাওয়ার কর্ড হয়ে যায়। পাওয়ার বাজানোর সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন ঐ নির্দিষ্ট নোট গুলো ছাড়া অন্য কোন নোট না বাজে।  তাই যে তিনটি স্ট্রিং ধরা হবে, শুধু সেগুলোকেই স্ট্রাইক করতে হবে।

কর্ডঃ

গিটারের ফ্রেট বোর্ডে নির্দিষ্ট কিছু নোট একসঙ্গে ধরে নির্দিষ্ট কিছু সুর তোলাই হচ্ছে কর্ড এর উদ্দেশ্য। নিচে কিছু কর্ড দেয়া আছে। প্রথমে এগুলো ধরতে শিখতে হবে এবং এক কর্ড এর পর অন্য কর্ড বাজিয়ে প্র্যাকটিস করতে হবে। কর্ড ধরার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রত্যেকটি স্ট্রিং (তার) ক্লিয়ার ভাবে বাজে। প্রত্যেকটা স্ট্রিং উপর থেকে নিচ এবং নিচ থেকে উপর – এভাবে বাজতে হবে।

কর্ড চেঞ্জিং:

এবার কর্ড প্লে করে চেঞ্জ করার নিয়ম।

C ২ বার

Em ২ বার

Am ৪ বার

এভাবে বাজাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন সাউন্ডটি ক্লিয়ার ভাবে আসে।

এবার কর্ড গুলো নিচের সিরিয়াল অনুযায়ী চেঞ্জ করে করে প্র্যাকটিস করুন।

C— Cmaj7 —- C—-   G (3rd fret position) —- (দুই বার)

C— Em—-E—-Am—Dm—   ( দুই বার)

Dm—-F—-G—-C (3rd fret position) —– (দুইবার)

রিদমঃ

কোন ছন্দ শুরু হতে সমাপ্তি পর্যন্ত যাওয়ার পর পুনরায় এর শুরুতে ফিরে আসতে যে সময় টুকু লাগে ঐ নির্দিষ্ট সময়কে রিদম বা তাল বলে। রিদম নানান ধরনের হতে পারে এবং বিভিন্ন রিদম বা তালের ছন্দ ও সময় ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। রিদম বা তাল চলার গতিকে লয় বলে। সোজা কথায় তাল কেই রিদম বলে।

অনলাইনে রিদম শেখার জন্য ভিডিও টিউটোরিয়ালই বেষ্ট। তবে নিজের প্রচেষ্টা আরও বেষ্ট। বিশেষ করে কোন তাল শোনার পর সেটা নিজে নিজে তোলার চেষ্টা করতে হবে এবং সেটাই বেশী কাজে আসবে। রিদম বাজানোর ক্ষেত্রে কিছু সূক্ষ্ম কাজ আছে, যেমন- Treble string Striking, Base string Striking, cut….etc.

স্কেলঃ

স্কেল হল কিছু নির্দিষ্ট মিউজিকাল নোট নিয়ে গঠিত একটি সিকুয়েন্স। এক একটি  স্কেল এক একটি নির্দিষ্ট ধরনের সাউন্ড তৈরি করে। যেমন ধরুন একটি নির্দিষ্ট ধরনের মিউজিক শুনলে আমরা বুঝতে পারি এটা চাইনিজ সুর । আবার ধরুন আরেকটি নির্দিষ্ট ধরনের মিউজিক শুনলে বুঝতে পারি যে এটি এ্যারাবিয়ান মিউজিক। এসবই স্কেলের প্রভাবে হয়ে থাকে। চাইনিজ স্কেলের ফলে মনে হয় সুরটি চাইনিজ। আবার এ্যারাবিয়ান স্কেলের ফলে বুঝতে পারি যে এটা এ্যারাবিয়ান মিউজিক। কিন্তু এমন নয় যে চাইনিজরা শুধু চাইনিজ স্কেল ইউজ করে, আর এ্যারাবিয়ানরা শুধু এ্যারাবিয়ান। সকলে মিউজিকে ভেরিয়েশান আনার জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কেলে কাজ করতে পছন্দ করে।

স্কেল অনেক ধরনের । যেমনঃ

Major Scale,

Minor Scale,

Pentatonic Scale,

Chinese Scale,

Japanese Scale,

Blues Scale,

Mirror Scale,

Melodic Scale,

Augment Scale,

Be-bop Scale,

Chromatic Scale,

Etc……

মিউজিকাল স্কেল এত বেশী ধরনের আছে যে একজন মানুষের পক্ষে সব ধরনের স্কেল মনে রাখা প্রায় অসম্ভব। আর এ বিভিন্ন ধরনের স্কেল গুলোর মধ্যে সবচেয়ে পপুলার হচ্ছে মেজর স্কেল (Major Scale) এবং মাইনর স্কেল (Minor Scale).

একটি গানে স্কেল এর কাজঃ

একটি স্কেলকে টার্গেট করে গানের সুর করা যায়। অর্থাৎ একটি স্কেলে যে সকল নোট থাকে তার এদিক ওদিক চেঞ্জের মাধ্যমে বিভিন্ন সুর রচনা করা যায় ।

যেমন ধরুন-“এল আর বি”-এর হাসতে দেখ, গাইতে দেখ গানটি Am স্কেলে করা ।

আর Am Scale- টি A-B-C-D-E-F-G-A এই নোট নিয়ে গঠিত।

এখন নোট গুলোর স্থান পরিবর্তন করে সুর তৈরি করা যায়।

নিচের মত করে নোট গুলো বাজান—(১০ নং ফ্রেটের ২ নং তার থেকে) এ নোট গুলো ১ ও ২নং স্ট্রিং ব্যাবহার করে বাজান।

A E D E—D E F—D—–|||

G D C D—CD—E E E F E D C D C—- |||

C B C C——A B C B—AGBA—|||

উপরের নোট গুলো এভাবে বাজালে, গানটির প্রথম লিডের কিছু অংশ শুনতে পাবেন।

সম্পূর্ণ ফ্রেট বোর্ডে মেজর স্কেল  প্র্যাকটিস করার জন্য ফ্রেট বোর্ডের যেকোন Aনোট থেকে  A  B  C#  D  E  F#  G#   এবং G#  F#  E  D  C#   B  A এই সিরিয়ালে আপ ডাউন করে প্র্যাকটিস করতে পারেন। অথবা নিজের ইচ্ছা মত ঐ নির্দিষ্ট নোট গুলো ফ্রেট বোর্ডের বিভিন্ন ফ্রেটে প্র্যাকটিস করেতে পারেন। তাছাড়া স্কেল প্রেকটিস করার নিয়ম ভিজুয়্যালি দেখার জন্য নিচের ভিডিও গুলো আপনাদের জন্য সহায়ক হতে পারে । নিচের লিঙ্কগুলো থেকে ডাউনলোড করে নিন।

এছাড়াও গিটার স্কেল প্রেকটিস করার জন্য Youtube এ অনেক ভিডিও টিউটোরিয়াল পাবেন।  চাইলে ভিডিও গুলো সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।  জাস্ট youtube.com এ গিয়ে “ guitar scale practice ” – এই keyword এ সার্চ দিন।

গিটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রঃ

গিটার শেখার জন্য অনেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। নিচে কয়েকটি একাডেমী এবং সেন্টার এর নাম দেয়া হলঃ

  • ছায়ানট
  • বুলবুল ললিতকলা একাডেমী
  • জার্মান কালচারাল সেন্টার
  • রাশিয়ান কালচার সেন্টার
  • ধ্রুপদী সঙ্গীত একাডেমী
  • চতুরঙ্গ শিল্পকলা একাডেমী
  • আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ
  • শিল্পকলা একাডেমী
  • বাংলাদেশ শিশু একাডেমী

Comments

comments