প্রচ্ছদ > বিনোদন > আনন্দালোকে > উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব ২৭ নভেম্বর থেকে, বিনামূল্যে নিবন্ধন চলছে
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব ২৭ নভেম্বর থেকে, বিনামূল্যে নিবন্ধন চলছে

উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব ২৭ নভেম্বর থেকে, বিনামূল্যে নিবন্ধন চলছে

চতুর্থবারের মতো বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের পর্দা উঠতে যাচ্ছে। অন্যান্যবারের মতো এবারো পাঁচদিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে। উৎসবের সূচনা হবে ২৭ নভেম্বর। উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের খ্যাতনামা পণ্ডিত ও ওস্তাদরা এই আয়োজনে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। এবারের উৎসব উৎসর্গ করা হবে বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ূম চৌধুরীকে। গেল বছর এ উৎসবমঞ্চেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
পাঁচদিনের বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের নাম নিবন্ধন শুরু হয়েছে। সবার জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজন উপভোগ করা যাবে নাম নিবন্ধন করে। টাকা দিয়ে টিকিট কেনার কোনো ব্যাপার নেই।

নাম নিবন্ধন করতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট  (www.bengalfoundation.org) থেকে একটি ফরম পূরণের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সফলভাবে ফরমটি পূরণের পর উৎসবের একটি ই-টিকিট নিবন্ধনকারীর ই-মেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। উৎসবের প্রবেশপথে এর প্রিন্ট অনুলিপি দেখাতে হবে।

এ ছাড়া এসএমএসের মাধ্যমে নিবন্ধনের জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে ইংরেজিতে লিখতে হবে Bengal এবং পাঠিয়ে দিতে হবে ৬৯৬৯ নম্বরে। এসএমএসের জন্য সাধারণ চার্জ কাটা হলেও নিবন্ধন করা যাবে একেবারে বিনামূল্যে।

যদি কারও সুবিধা হয় তাহলে ধানমণ্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে গিয়েও নাম নিবন্ধন করিয়ে আসতে পারেন। বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ও বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর লক্ষ্ণৌতে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সরাসরি নিবন্ধন করা যাবে। উৎসবস্থলের ধারণক্ষমতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিবন্ধন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। এবার উৎসবের প্রবেশমুখে কোনো নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই উৎসবটি এরই মধ্যে উপমহাদেশের তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিসরের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

এবারের উৎসবে যা থাকছে :
উৎসবে একক তবলা বাদন পরিবেশন করবেন বিখ্যাত শিল্পী ওস্তাদ জাকির হোসেন। অন্য নতুন শিল্পীরা হচ্ছেন বাঁশিশিল্পী জয়াপ্রদা রামমূর্তি। তবে প্রথমবারের মতো আসছেন খ্যাতিমান কর্ণাটকি কণ্ঠশিল্পী পদ্মবিভূষণ বালমুরালীকৃষ্ণ। তিনি এবারের প্রবীণতম শিল্পী। তার সঙ্গে বাঁশিতে যুগলবন্দি বাজাবেন গ্র্যামী মনোনীত শিল্পী রনু মজুমদার।

উৎসবে প্রথমবারের মতো আরও আসছেন জনপ্রিয় খেয়ালিয়া শুভা মুডগাল, শ্রুতি সাদোলিকার ও ধ্রুপদিয়া ওয়াসিফউদ্দিন ডাগর।

এছাড়াও এন রাজমের নেতৃত্বে আসছেন কর্ণাটকি ধারার তিন প্রজন্মের বেহালা শিল্পী। কুচিপুড়ি নৃত্য পরিবেশন করবেন রাজা ও রাধা রেড্ডি দম্পতি। উৎসবে নতুন যন্ত্র সরস্বতী বীণা পরিবেশন করবেন জয়ন্তী কুমারেশ। প্রায় বিলুপ্ত এসরাজ বাজিয়ে শোনাবেন শুভায়ু সেন মজুমদার।

দুই বছর আগে এই উৎসবে গেয়েছিলেন অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত শিল্পী বোম্বে জয়শ্রী। তিনি এবারও আসবেন। ভরতনাট্যম পরিবেশন করেছিলেন আলারমেল ভাল্লি। এবার গণেশ ও তার ভাই কুমারেশ কর্ণাটকি বেহালায় যুগলবন্দি বাজাবেন। কড়াইকুড়ি মানি বিশ্বের অন্যতম মৃদঙ্গশিল্পী হিসেবে স্বীকৃত। গত বছর সকলের প্রশংসা অর্জন করা এই শিল্পী নিজের দল নিয়ে এ বছরও ঢাকায় বাজাবেন।

বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও অংশ নেবেন প্রথিতযশা শিল্পী পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, শিবকুমার শর্মা, পণ্ডিত চক্রবর্তী, সুরেশ তালওয়ালকার, উল্লাস কশলকার, তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার ও ওস্তাদ রশিদ খান। জনপ্রিয় শিল্পী রাহুল শর্মা ও কৌশিকী চক্রবর্তীসহ উদয় ভাওয়ালকার আর সামিহান কশলকারও এবার থাকবেন।

অনুষ্ঠানের সর্বকনিষ্ঠ শিল্পী ফাহমিদা নাজনীন ও মোহাম্মদ ভুবন বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের দলীয় তবলা পরিবেশনায় অংশ নেবেন। দলীয় তালবাদ্য পরিবেশনায় তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন একই সঙ্গীতালয়ের শিশুশিল্পী সুপান্থ মজুমদার ও পঞ্চম স্যানাল।

উৎসবে বাংলাদেশি শিল্পীদের তালিকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গীত বিভাগের অসিত রায়ের পরিচালনায় সংগীত বিভাগ আটজনের একটি দলীয় পরিবেশনা উপস্থাপন করবে। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও সংগঠক মিনু বিল্লাহর পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২২ জন নৃত্যশিল্পী। ওয়ার্দা রিহাবের পরিচালনায় মণিপুরী দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবেন ৩০ জন নৃত্যশিল্পী। অনিমেষ বিজয় চৌধুরীর পরিচালনায় সিলেটের আটজন শিল্পী পরিবেশন করবেন ধামার। এককভাবে মঞ্চে আসবেন সরোদশিল্পী ইউসুফ খান।

ভোর রাতে অনুষ্ঠান শেষে শ্রোতাদের যাতায়াত সুবিধার জন্য বিশেষ বাস সেবা দিয়ে থাকে কর্তৃপক্ষ। বাসগুলো স্টেডিয়ামের রাস্তার অপর পাশে অপেক্ষামান থাকে।

Comments

comments

Comments are closed.