প্রচ্ছদ > বিনোদন > তারকার ভিন্ন পেশা > সারা যাকের, অভিনেত্রী
সারা যাকের, অভিনেত্রী

সারা যাকের, অভিনেত্রী

আমি খুব সময় মেনে চলি
সারা যাকের
নির্বাহী পরিচালক
এশিয়াটিক মার্কেটিং কম্পানি লিমিটেড

সেটা ছিল ষাটের দশক। আমার মা ছিলেন স্কুল শিক্ষক। অন্য পেশার কাউকে আমি তখনো দেখে উঠিনি। তাই মায়ের পেশার বাইরে কিছু ভাবতে পারতাম না। ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা শেষ করি। তারপর ১৯৮৫ সালেই যোগ দিই এমআরসি মোড রিসার্চ সেন্টারে। আমার বেতন ছিল ৫ হাজার টাকা। টাকাটা বেশির ভাগ জমাতাম। পরে ছেলেকে বাইরে নিয়ে গিয়েছিলাম এই টাকা দিয়ে। এরপর ১৯৯৬ সালে এশিয়াটিক মার্কেটিং কম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যুক্ত হই।
কাজের ক্ষেত্রে চেনামুখের কারণে সুবিধা-অসুবিধা দুটোই পোহাতে হয়। মজার ঘটনা ঘটে কোনো সেমিনার বা ওয়ার্কশপে গেলে। সবাই বলে, আপনাকে তো চিনি, আপনি তো অভিনয় করেন। কিন্তু এখানে তো আমি অভিনেত্রী নই। সেখানে আমার পেশাদারি ব্যক্তিত্বটাই প্রাধান্য পায়।
অনেক সময় দেখা যায়, অফিসের কিছু কাজ আমি বাসায় সেরে নিই। যেমন- চেক সই, মেইল বক্স চেক করা ইত্যাদি। সকালটা আমি সংসারকে দিতে পছন্দ করি। আমাদের চারটি কুকুর আছে। ওদের সময় দিই। আর অফিসে যখন আসি, আমার মনে হয় না আমি পরিবারের বাইরে আছি। আমার কাজের নিয়মই হচ্ছে, সময়মতো অফিসে যাওয়া, নিয়মমাফিক কাজ করা। আমি কী করতে চাই এবং কী করছি এ ব্যাপারে আমার ধারণা সব সময় পরিষ্কার থাকে। অফিসের ব্যাপারে আমি খুব সময় মেনে চলি। আমরা যদি দেরি করে যাই অন্যরা কী করবে। তবুও যদি দেরি হয়, আমার সহকর্মীরা বোঝে। জবাবদিহি করতে হয় না। ইদানীং বছরে একটা নাটক করি। একই সঙ্গে দুটো পেশায় থাকা যায় না। তবে মঞ্চে কাজ করছি। তাই মন খারাপ হয় না।
আমার সহকর্মীদের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। ওরা আমার কাজ করার ধরন বোঝে এবং অনেক সাহায্য করে।
অবসর সময়ের পুরোটাই ফ্যামিলির সঙ্গে গল্প করে কাটাই। আমার কুকুরগুলোকেও সময় দিই। যা করি আন্তরিকভাবে করি। সৃজনশীলতার সঙ্গে পেশাদারিত্বের কোনো সংঘর্ষ নেই। জীবনটা ডিসিপ্লিনড হতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে।

Comments

comments

Comments are closed.