প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > সড়কে চলতেও গুণতে হবে টোল!
সড়কে চলতেও গুণতে হবে টোল!

সড়কে চলতেও গুণতে হবে টোল!

সেতুর পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কগুলোকে টোলের আওতায় আনছে সরকার।

বর্তমানে কেবল সেতু ও দুটি মহাসড়ক ব্যবহারের জন্য টোল নেয়া হলেও সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে যানবাহন অনুযায়ী টোল দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ‘টোল নীতিমালা-২০১৪’ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের জানান, নীতিমালা হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সংসদে পাস করার প্রয়োজন পড়বে না। সড়ক বিভাগ তাদের সুবিধামতো সময়ে এই নীতিমালার আওতায় পর্যায়ক্রমে জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কগুলোকে টোলের আওতায় আনবে।
মোশাররাফ বলেন, ১৩টি ক্যাটাগরিতে যানবাহন চলাচলের জন্য এই টোল দিতে হবে। টোলের হার হবে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত।
“সড়ক ও সেতু থেকে আদায় করা টোল সড়ক উন্নয়ন তহবিলে যাবে; যা দিয়ে সড়ক কাঠামোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। সেজন্য উদ্ভাবনী বা বিকল্প অর্থায়নও আমাদের দেখতে হয়।”
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, টোল আরোপযোগ্য স্থাপনা চিহ্নিত করে কীভাবে আদায় করা হবে, টোলের টাকা কীভাবে ও কোথায় জমা হবে, কোন নির্ণায়কের ভিত্তিতে টোল নির্ধারণ করা হবে- এসব বিষয়ে নীতিমালায় বিস্তারিত বলা আছে।
“দেশে বিশাল সড়ক নেটওয়ার্ক আছে। সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন সরকারের প্রায়োরিটি প্রোগ্রাম। এর পাশাপাশি রক্ষাণাবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, টোল আদায়ের পদ্ধতিকে স্বচ্ছ, আধুনিক ও যুগোপযোগী করতেই এ নীতিমালা। টোল আদায় পদ্ধতির সঙ্গে মিনিটরিং ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হবে।
জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কের পাশাপাশি জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়ক’ নামে আরো একটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে বলে জানান মোশাররাফ।
তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন সময় এসব ‘গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক’ নির্ধারণ করবে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক’ হিসাবে চিহ্নিত।
এসব সড়কের ওভারপাস, উড়ালসেতু (ফ্লাইওভার), সেতু, টানেল, ফেরি ছাড়াও একই ধরনের স্থাপনা টোল নীতিমালার আওতায় আসবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, টোলের হার বাড়ানো ছাড়াও এ নীতিমালা প্রয়োজনে সংশোধনের বিধান রাখা হয়েছে।

টোল ক্যাটাগরি
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সেতু টোলের আওতায় আসবে। এছাড়া যেখানে ফেরি আছে সেখানে স্থায়ী সেতু হলে দৈর্ঘ্য যাই হোক, কমপক্ষে এক বছরের জন্য তা টোলের আওতায় আসবে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে কোনো সড়ক, সেতু বা এ ধরনের অন্য স্থাপনা হলে তাও টোলের আওতায় আসবে। সেতু ও ফেরির ক্ষেত্রে টোল নির্ধারণে চারটি ‘স্ল্যাব’ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান মোশাররাফ। তিনি বলেন, ২০০ থেকে ৫০০ মিটার, ৫০১ থেকে ৭৫০ মিটার, ৭৫১ থেকে ১০০০ মিটার এবং এক হাজার মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের জন্য আলাদা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।
সড়কের ক্ষেত্রে তিন ক্যাটাগরিতে ‘ভিত্তি টোল’ নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সড়কের ভিত্তি টোল ধরা হয়েছে ১০০ টাকা।
এছাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ভিত্তি টোল ২০০ টাকা, জাতীয় মহাসড়ক ৩০০ টাকা এবং জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে যেগুলোকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করবে সেগুলোতে ভিত্তি টোল হবে ৪০০ টাকা।

ভিত্তি টোল
গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের ভিত্তি টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা। অর্থাৎ, এসব সড়কে সাধারণ ট্রাক চালাতে ৪০০ টাকা টোল দিতে হবে।
আর ভারী ট্রাককে দিতে হবে ভিত্তি টোলের দ্বিগুণ, অর্থাৎ ৮০০ টাকা। আর ট্রেইলারের ক্ষেত্রে টোল হবে এক হাজার টাকা।
গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে বড় বাসের টোল হবে ভিত্তি টোলের ৯০ শতাংশ, মিনি ট্রাকের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ। এছাড়া ১৩টি শ্রেণিতে যানবাহনের জন্য আলাদা আলাদা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

টোল আদায়
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সড়কভেদে তিনভাবে টোল আদায় করার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়।
বড় গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের জন্য ‘অপারেশন অ্যান্ড ম্যানেজম্যান্ট’ পদ্ধতিতে টোল আদায় করা হবে, যা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। বঙ্গবন্ধু সেতুতে বর্তমানে এ পদ্ধতিতেই টোল আদায় করা হচ্ছে।
অন্য ক্ষেত্রে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে টোল আদায় করা হবে। নিলামে টোল আদায় করা না গেলে বিভাগীয় সিদ্ধান্তে টোল আদায় করা হবে। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা।
দুটি সেতু কাছাকাছি হলে সময় বাঁচাতে এবং যানজট কমাতে দুই সেতুর টোল এক জায়গায় সংগ্রহ করা হবে।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Comments

comments

Comments are closed.