প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বেসরকারি ঋণ প্রবাহ খানিকটা টেনে ধরে নতুন মুদ্রানীতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ শতাংশ। আর বিদেশি খাতের ঋণ প্রবাহ বিবেচনায় এই হার ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গত মুদ্রানীতির সমান। যদিও গত মুদ্রানীতিতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ধরা হয়েছিল সাড়ে ১৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঋণ প্রবাহ আগের মতোই রয়েছে। এই প্রবাহ দিয়ে যেকোনো মাত্রার প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। এটি বিনিয়োগ বান্ধব, তবে সর্তক মুদ্রানীতি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিমত, এই ঋণ প্রবাহ দিয়ে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নেমে আসবে।
শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। গভর্নর ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেন।
এসময় গভর্নর বলেন, উপযুক্ত নীতি অনুযায়ী চলমান অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতি প্রোগামে রিজার্ভ মুদ্রা এবং ব্যাপক মুদ্রার প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপিত হয়েছে যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৫ ও ১৬ শতাংশ। বৈদেশিক উৎসের আমদানি অর্থায়নসহ বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপিত হয়েছে ১৬.৫ শতাংশ। যা এই ষান্মাসিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির যেকোনো বাস্তবসম্মত উচ্চতর মাত্রা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত হবে।
ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপিত হয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে সরকারের আর্থিক নীতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির যথাযথ সমন্বয়ের জন্য নিয়মিত আলোচনা কার্যক্রম প্রথাগতভাবেই অব্যাহত থাকবে। তবে, বেসরকারি খাতের জন্য বৈদেশিক উৎসের বাণিজ্যিক ঋণ গ্রহণ উন্মুক্ত থাকায় এবং ব্যাংকগুলোর কেনা টাকা-ট্রেজারি বন্ডের বৈদেশিক চাহিদা সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার কারণে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ যোগান অপর্যাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বস্তুত আর নেই।
বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাতে অর্থায়ন সুলভতর করার জন্য মুদ্রানীতি প্রোগ্রামের আওতায় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান সমর্থন উদ্যোগগুলো জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্ধিত মাত্রায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে স্থানীয় মুদ্রা বাজার থেকে চলতি মূলধনের পাশাপাশি মেয়াদি ঋণ গ্রহণও বিদেশি মালিকানার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, মূল মালিক পক্ষ থেকে সুদবিহীন চলতি মূলধন ঋণ গ্রহণও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এসব কিছুই করা হয়েছে বিনিয়োগকে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে।
আতিউর রহমান জানান, অর্থনীতির বহিঃখাতে সামর্থের স্থিতিশীলতা ও সঙ্গতি সুসংহত রাখাও নতুন অর্থবছরের মুদ্রানীতি প্রোগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ফোকাস। দেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম গতিশীল হওয়ার সূত্রে অর্থবছর ১৫ এ বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বৃদ্ধির মাত্রা আগের চেয়ে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, এ কারণে বৈদেশিক খাতে পরিশোধ-সঙ্গতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে না।
রেমিট্যান্স: প্রবাসী আয়ের নিম্নগতির প্রসঙ্গ টেনে আতিউর রহমান বলেন, বিগত অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাস প্রবাসী আয় কিছু কমে যায়। তবে পরের ৬ মাসে আবার প্রবাসী আয়ে গতি এসেছে। এই ধারা অব্যাহত রাখার জন্য জনশক্তি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে বিরাজমান মন্দাভাব থেকে উত্তরণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে।
একই কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শক আল্লাহ মালিক কাজমী।
মূল্যস্ফীতি: বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতিতে বলছে, এই নীতির কার্যকর প্রয়োগের সূত্রে গড় বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২০১৪ সালের জুনে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি দাঁড়ালেও নিম্নগামী। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির অনেকটা কম ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তাই মূল্যস্ফীতির এবারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে সাড়ে ৬ শতাংশ।
পুঁজিবাজার বান্ধব: গভর্নর তার বক্তব্যে বলেন, মুদ্রানীতি পুঁজিবাজার বান্ধব। এই মুদ্রানীতি পুঁজিবাজারে স্বস্তি আনবে। এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বলেন, মুদ্রানীতিতে শুধু ইঙ্গিত করা হয়েছে এটি পুঁজিবাজার বান্ধব। বিস্তারিত কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
বেসিক ব্যাংক: বেসিক ব্যাংকের অর্থ পাচারের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করে দেখছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন, বিষয়টি অতি গোপনীয়তার সঙ্গে করা হচ্ছে। তদন্ত করে কিছু পাওয়া গেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদককে বলা হবে ব্যবস্থা নিতে।
আতিউর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যেভাবে আছে সেটি অব্যাহত থাকতে হবে। প্রবৃদ্ধির জন্য রাজনীতিকসহ সবাইকে কাজ করতে হবে। এখানে স্থিতিশীলতার বিষয়টি জরুরি।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Comments

comments

Comments are closed.