প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > চাকরিতে নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে
চাকরিতে নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে

চাকরিতে নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে

সরকারি চাকুরেরা নতুন কাঠামোতে বেতন পাবেন ১ জুলাই থেকে। আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশনের কাছ থেকে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশের প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তবে ওই সুপারিশ সংস্কার করতে হলে কিছুটা সময় লাগবে। তবে যত সংস্কারই করতে হোক না কেন, এই বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে। এ ঘোষণা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের। গতকাল সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রীর এ ঘোষণায় স্বস্তির পাশাপাশি এক ধরনের হতাশাও নেমেছে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ভোটের আশায় ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর বেতন ও চাকরি কমিশন গঠন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই সময় বলা হয়েছিল, এপ্রিল মাসের মধ্যে কমিশন প্রতিবেদন দেবে। পরে এর মেয়াদ এক লাফে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সবার আশা ছিল চলতি অর্থবছর থেকেই নতুন কাঠামোতে বেতন পাবে।
বেতন ও চাকরি কমিশনের একজন সদস্য জানান, এরই মধ্যে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর মতামত পাওয়া গেছে। কমিশন সেসব এখন বিশ্লেষণ করছে। পাশাপাশি বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ছয় সদস্যের পরিবারের মাসিক খরচ কেমন হতে পারে, তা নিয়েও হিসাব-নিকাশ চলছে।
ওই সদস্য আরো জানান, আগের বেতন কাঠামোগুলোতে একটি পরিবারের সদস্যসংখ্যা চারজন ধরা হয়েছে। মা-বাবার ভরণপোষণ আইন পাসের পর এবার এই সংখ্যা ছয় হিসাবে বিবেচনা করা হবে। স্বাভাবিক হিসাবে দেখা যায়, সদস্যসংখ্যা দুজন বাড়ার কারণে বিদ্যমান বেতন কাঠামোর প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি বেতনের প্রয়োজন। তবে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় মূল বেতন বাড়িয়ে আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ভাতা নগদ টাকার বদলে অন্যভাবে দেওয়ার পক্ষে কমিশন। তবে এর কোনো কিছুই এখনো চূড়ান্ত নয়।
বিভিন্ন ভাতা নগদ টাকার বদলে সেবা হিসেবে দেওয়ার কথা এপ্রিল মাসেই সাংবাদিকদের বলেছিলেন বেতন ও চাকরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তবে এতে দুর্নীতির আশঙ্কা করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই।
একই অবস্থা শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রেও। সরকারি চাকরিজীবী দুই সন্তানের জন্য মাসে শিক্ষা ভাতা পান ৩০০ টাকা। জাতীয় চাকরি ও বেতন কমিশনের পরিকল্পনা হলো, এই ভাতার বদলে চাকরিজীবীর সন্তানদের বিনা মূল্যে বই, খাতা, কলমের মতো শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা। এ ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এর আগে কমিশনের পক্ষ থেকে দুই সেট প্রশ্নপত্র তৈরি করে মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে অবশ্য বিভিন্ন ভাতার ক্ষেত্রে নগদ টাকার বদলে সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টির উল্লেখ নেই। বর্তমান বেতন কাঠামোতে একজন চাকরিজীবীর চিকিৎসা ভাতা মাসে ৭০০ টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে দেড় হাজার বা দুই হাজার টাকা নির্ধারণের ব্যাপারে মতামত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিদ্যমান কাঠামোতে দুই সন্তানের শিক্ষা ভাতা মাসে ৩০০ টাকা আছে। তা বাড়িয়ে ৮০০, ১২০০ অথবা ১৫০০ টাকা করার বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের তৈরি করা প্রশ্নপত্রের একটিতে মতামত নেওয়া হয়েছে জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত চাকরিজীবীদের কাছ থেকে। তাতে মোট ২৬টি প্রশ্ন ছিল, যার বেশির ভাগই এমসিকিউ পদ্ধতির। এতে চাকরিজীবীদের গ্রেড ২০টি থেকে বাড়ানো উচিত কি না, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ছয় সদস্যের পরিবারের সর্বনিু ও সর্বোচ্চ মূল বেতন কত হওয়া উচিত, ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ পদ্ধতি, সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার উপায়, মূল বেতনের তুলনায় বাড়িভাড়া কত শতাংশ হওয়া উচিত, পেনশন বাড়ানো উচিত কি না, বিভিন্ন দপ্তর ও ক্যাডারভিত্তিক চাকরিতে বেতন ও অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা উচিত কি না ইত্যাদি বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে।
আরেকটি প্রশ্নপত্র করা হয়েছিল সরকারি, আধাসরকারি, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার জনবলের মতামত নেওয়ার জন্য। তাতে মোট ১৭টি বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে। এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত বেতন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসৎ উপায় অবলম্বনে উৎসাহিত করে কি না, বেতন বাড়ানো ছাড়া আর কী কী উপায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা বাড়ানো যায়, সে সম্পর্কে মতামত নিয়েছে কমিশন। সততা বাড়ানোর প্রশ্নে ছয়টি বিকল্প উত্তর রাখা ছিল, যেমন- অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠন, বার্ষিক নিয়মিত সম্পদ বিবরণী দাখিল, দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, দুর্নীতিবিরোধী জনমত গঠন ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারফরম্যান্স বোনাস দেওয়া ও অন্যান্য।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*