তথ্য পেতে চাইলে

তথ্য পেতে চাইলে

তানজিম আল ইসলাম :::
যখন যা জানতে চাইবেন, তা-ই জানাতে বাধ্য থাকবে যে কেউ৷ তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর আওতায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যেকোনো তথ্য জানার অধিকার আপনার রয়েছে৷ এ আইন অনুযায়ী সরকারি এবং নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একজন করে তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে৷

কীভাবে তথ্যপ্রাপ্তির অনুরোধ জানাতে হয়?
আপনাকে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী সংশ্লি­ষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তার কাছে তথ্যপ্রাপ্তির আবেদন করতে হবে৷ আবেদন অবশ্যই লিখিত হতে হবে৷ এতে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্যাদি থাকতে হবে৷ কী পদ্ধতিতে তথ্য পেতে চান, তা উল্লেখ করতে হবে৷ আবেদনের পর ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য সরবরাহ করতে হবে৷ একাধিক তথ্য পেতে চাইলে ৩০ কার্যদিবস সময় পাবেন তথ্যদাতা৷ অনুরোধ করা তথ্য ব্যক্তির জীবন-মুত্যু, গ্রেপ্তার এবং কারাগার থেকে মুক্তি-সম্পর্কিত হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক তথ্য সরবরাহ করতে হবে৷ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য লাভে সহায়তা এবং পরিদর্শনের জন্য যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করতে হবে৷ কোনো কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথ্য দিতে না পারলে আবেদন পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে তা আবেদনকারীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে৷

তথ্যলাভে ব্যর্থ হলে কী করবেন?
কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তথ্যলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার বা সিদ্ধান্ত লাভ করার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন৷ আইন অনুযায়ী আপিল কর্তৃপক্ষ হচ্ছে প্রথমে যে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল, সেই সংস্থার বা ইউনিটের ঠিক ওপরের কার্যালয়৷ আপিল কর্তৃপক্ষ যদি সন্তুষ্ট হয়, তাহলে ওই সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পরও আপিল আবেদন গ্রহণ করতে পারবেন৷ আপিল কর্তৃপক্ষ আপিল আবেদন পাওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে আপিল আবেদনকারীকে অনুরোধ করা তথ্য সরবরাহের জন্য সংশ্লি­ষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করবেন৷ আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না হলে আপিল আবেদনটি খারিজ করে দেবেন৷

কখন তথ্য কমিশনের কাছে অভিযোগ করা যাবে?
তথ্যের জন্য অনুরোধপত্র গ্রহণ না করা, তথ্যচাহিদা প্রত্যাখ্যাত হলে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো জবাব বা তথ্য প্রাপ্ত না হলে, অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে এবং আপিলের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ বা সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য কমিশনে অভিযোগ করতে পারবেন৷ অভিযোগ প্রাপ্তির পর কোনো কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজন হলে কমিশন এ বিষয়ে অনুসন্ধান করবে৷ কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ বা প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান সম্পন্ন করে প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনার একটি সিদ্ধান্ত কার্যপত্র প্রস্তুত করবেন এবং এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন৷ কমিশন সাধারণভাবে ৪৫ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করবে, তবে অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা কোনোক্রমেই ৭৫ দিনের অধিক হবে না৷ অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর জরিমানা আরোপ করতে পারে কমিশন৷ এ ছাড়া সংশ্লি­ষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশ করতে পারবে কমিশন৷

জেনে রাখুন
তথ্য অধিকার আইন আপনাকে যেকোনো সরকারি এবং বেসরকারি দপ্তরে তথ্য চাওয়ার অধিকার দিয়েছে৷ তবে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকিস্বরূপ তথ্য, কপিরাইট বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ-সম্পর্কিত তথ্য, আদালত অবমাননার শামিল বিচারাধীন বিষয়-সম্পর্কিত কোনো তথ্য, ইত্যাদি প্রকাশ বা প্রদান তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নয়৷ বর্তমানে ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রত্নতত্ত্ব ভবনের তৃতীয় তলায় তথ্য কমিশনের কার্যালয় রয়েছে৷ তথ্য প্রাপ্তির আবেদনপত্র এবং আপিলের আবেদনের নমুনাসহ তথ্য অধিকার নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন তথ্য কমিশনের ওয়েবসাইটে৷ ওয়েবসাইটটির ঠিকানা হচ্ছে : www.infocom.gov.bd

লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

Comments

comments

Comments are closed.