প্রচ্ছদ > আইনশৃঙ্খলা > আইন-কানুন > কেউ নিখোঁজ হলে
কেউ নিখোঁজ হলে

কেউ নিখোঁজ হলে

তানজিম আল ইসলাম :::

নিখোঁজ হলো কাছের কেউ, আত্মীয় বা বন্ধু, তখন তাঁকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সবার চেষ্টার কমতি থাকে না৷ পরিচিত সব জায়গায় খোঁজখবর নেওয়া, মাইকে প্রচার করা এবং গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণাসহ সব উদ্যোগই নিতে দেখা যায়৷ তবে প্রথমেই যে কাজটি করা উচিত, তা অনেকেই করেন না৷ যেকোনো বয়সের ব্যক্তি নিখোঁজ হলে সবার আগে কাছের থানায় যোগাযোগ করে তাদের অবগত করতে হবে৷ অবগত শুধু মৌখিকভাবে করলে হবে না, এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন মানতে হবে৷ কারণ, মৌখিকভাবে অবগত করলে থানা বিষয়টি অনেক সময় আমলে না-ও নিতে পারে৷ তাই স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করতে হবে৷
যদি অপহরণ হওয়ার সন্দেহ থাকে: নিখোঁজ ব্যক্তিটি যদি অপহৃত হয়েছে বলে কোনো সন্দেহ হয় কিংবা নির্দিষ্ট কোনো কারণ থাকে, তাহলে শুধু জিডি করলে হবে না, প্রয়োজনে এজাহার দায়েরের মাধ্যমে মামলা করতে পারেন৷ এতে অপহরণ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট কারণ থাকলে এবং সন্দেহভাজন কেউ থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিয়ে এজাহার করতে হবে৷ দেশে প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ দণ্ডবিধিতে অপহরণের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে৷ অনেক সময় বিভিন্ন উড়ো নম্বর থেকে ফোনে হুমকি-ধমকি আসতে পারে কিংবা কোনো মুক্তিপণ দাবি করলে কালবিলম্ব না করে থানায় অবগত করা উচিত৷
জেনে রাখুন: অনেক সময় পথেঘাটে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ পেলে পুলিশ তাদের নিরাপদ হেফাজতে রাখে এবং আদালতের অনুমতিক্রমে সরকারি সদনে রাখে৷ পুলিশ তাদের বিভিন্ন সময় আদালতে হাজির করায় এবং এ জন্য মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আলাদা একটি নন-এফআইআর শাখা রয়েছে৷ কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে গেলে যদি ব্যক্তিটি নিজের নাম-ঠিকানা বলতে অপারগ হয়, শিশু, মানসিক অথবা শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়, তাহলে আদালতের এ শাখায়ও যোগাযোগ করে খোঁজখবর নিতে পারেন৷ এ ছাড়া ঢাকার তেজগাঁও থানায় অবস্থিত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেও খোঁজখবর নিতে পারেন৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উদ্ধার করা ব্যক্তিকে, বিশেষ করে নারী ও শিশুকে এখানে পাঠানো হয়ে থাকে৷
লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

 

Comments

comments

Comments are closed.