প্রচ্ছদ > লাইফস্টাইল > টিপস > খুশকি থাকবে না, চুলও পড়বে না
খুশকি থাকবে না, চুলও পড়বে না

খুশকি থাকবে না, চুলও পড়বে না

একবার যদি চুলে খুশকি হয়, বাড়তি বিড়ম্বনা। খানিক নড়াচড়া করলেই ঝরে পড়বে শরীরে-পোশাকে। তাই ত্বকের চেয়েও বেশি যত্ন দিন চুলে। আর ঘরে বসেই সারুন সমস্যা। পরিচর্যা জানাচ্ছেন ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের রূপ বিশেষজ্ঞ কণা আলম

খুশকি শীতে চুলের অনেক সমস্যার মধ্যে বড় সমস্যা ‘ড্যানড্রাফ’ বা খুশকি। যদিও সারা বছরই এই ঝামেলাটা পোহাতে হয় অনেকেরই। তবে শীতে আক্রমণটা একটু বেশিই হয় ধুলাবালির কারণে। খুশকি আসলে স্কাল্পের মরা চামড়া, যা সবারই কমবেশি হয়ে থাকে। তবে শীতকালে বেশি হয়ে থাকে শুষ্কতার কারণে। ক্ষেত্রবিশেষে মেডিকেটেড শ্যাম্পু, স্টেরয়েড লোশন ব্যবহারে খুশকি সম্পূর্ণ চলে যায়। তবে খুশকি নিরাময়ের জন্য হারবাল এবং ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করাই শ্রেয়। হট অয়েল ম্যাসাজ খুশকি নিরাময়ে বিশেষ উপকারী। এ ছাড়া লেবুর রস গরম করে মাথায় ম্যাসাজ করা হলে এবং স্টিম ট্রিটমেন্ট করলে খুশকি কমবে। ঠাণ্ডার ভয়কে জয় করে প্রতিদিন চুল ওয়াশ করলে খুশকি থেকে অনেকাংশেই মুক্তি পাওয়া যাবে। কন্ডিশনারও ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে চুলটা খুব ভালোভাবে পানি দিয়ে ধোয়া হয়। নিজের চিরুনি, ব্রাশ, তোয়ালে, বালিশের কাভার যথাসাধ্য পরিষ্কার রাখুন। আর খেয়াল রাখতে হবে, যেন একজনের ব্যবহৃত জিনিস আরেকজন ব্যবহার না করে।

ড্রাই চুল
চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হলে লাল হয়, ফেটে যায়, ভেঙে যায়। শুষ্ক চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন। সপ্তাহে এক দিন পার্লারে হট অয়েল থেরাপি নেবেন। এ ক্ষেত্রে বাসায় হট অয়েল থেরাপি নিতে প্রথমে অলিভ অয়েল বা যেকোনো তেল গরম করে সব চুল ভালোভাবে ম্যাসাজ করে লাগান। এরপর হালকা ম্যাসাজ করুন। দুটি মোটা তোয়ালে পর্যায়ক্রমে গরম পানিতে ভিজিয়ে পাগড়ির মতো মাথায় পেঁচিয়ে তেলসহ চুলে ভাপ নিন, যেন সব চুলের গোড়ায় তেল পেঁৗছে। বিকেলে এটা করলে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করুন।

ফাটা চুল
যাদের চুলের ডগা ফাটা বা অনেকখানি ওপরে উঠে এসেছে তাদের প্রতি মাসে চুলের আগা ট্রিম করতে হবে। বিশেষ করে ফাটা অনেক ওপর পর্যন্ত উঠে এলে এই আগা ফাটা চুলগুলো পারলারে গিয়ে ছেঁটে নিতে হবে। সপ্তাহে দুদিন মধু ও মেয়োনেজ সমপরিমাণে নিয়ে চুলে লাগাতে হবে। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করতে হবে।

চুল পড়া
চুল পড়ার অনেক কারণ থাকে। যেমন_অসুস্থতা, খুশকি, ড্রাইনেস, হরমোনের সমস্যা ইত্যাদি। এসব সমস্যা অনুযায়ী যত্ন নিতে হবে। ভিটামিনের অভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন খেতে হবে। সে সঙ্গে নিয়মিত সমপরিমাণ ছোট পেঁয়াজ বাটা, কেশুতি পাতা বাটা ও আমলকী বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করবেন।

টিপস
* মেথিবাটা, পেঁয়াজ, নিমপাতা, লেবুর রস, টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন। ৩০-৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।
* ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগালেও চুল উজ্বল হয়
* টক দই ও বাটা মেহেদি একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো মাথার চুলে লাগিয়ে রাখুন ৩৫-৪৫ মিনিট। এরপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ২-৩ দিন অথবা সপ্তাহে কমপক্ষে ১ দিন ব্যবহারে খুশকি চলে যাবে এবং চুল হয়ে উঠবে অনেক সুন্দর।
* লেবুর রস, জবা ফুল ও কর্পূর একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগালে খুশকির উপদ্রব কমবে।
* টক দই, লেবু ও ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে প্যাক হিসেবে পুরো চুলে লাগান। ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।
* বাটা পেঁয়াজের রস ও মেথি পেস্ট করে লাগালে খুশকি দূর হয়।
* একদিন পরপর অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুলের গোড়া পরিষ্কার রাখুন। দু’সপ্তাহের মধ্যেই খুশকি কমে যাবে।

Comments

comments

Comments are closed.