প্রচ্ছদ > জেনে নিন > হজে যেতে চাইলে ‘প্রাক-নিবন্ধন’ করতে হবে
হজে যেতে চাইলে ‘প্রাক-নিবন্ধন’ করতে হবে

হজে যেতে চাইলে ‘প্রাক-নিবন্ধন’ করতে হবে

এ বছর সৌদি কোটা অনুযায়ী ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন হজ পালন করতে পারবেন। তাই কোটা পূরণ হওয়ার আগেই প্রাক্-নিবন্ধন করুন
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এবার যাঁরা হজে যেতে চান, তাঁদের এখনই প্রস্তুতি শুরু করা দরকার। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া যায়।
এ বছর গাইড, মুনাজ্জেম, সরকারি খরচে হজ পালনকারীসহ ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যেতে পারবেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. অাব্দুল জলিল জানিয়েছেন, হজে যাওয়ার প্রথম ধাপে প্রাক্-নিবন্ধন করতে হবে। সৌদি ই-হজ সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য এ বছর থেকে প্রাক্-নিবন্ধন চালু করা হয়েছে। নিজে অথবা ধর্ম-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত বৈধ হজ এজেন্সির মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে প্রাক্-নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র, এমআর পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বরসহ (যেখানে এসএমএস পাবেন) সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য নিকটস্থ ইউনিয়ন তথ্যসেবাকেন্দ্রে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, পরিচালক হজ কার্যালয় এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত বৈধ হজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রাক্-নিবন্ধন করা যাবে। ১৮ বছরের নিচে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারা অভিভাবকের সঙ্গে জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে নিবন্ধন করতে পারবে। এই তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার ও পুলিশের বিশেষ শাখার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

ধাপে ধাপে প্রাক্-নিবন্ধন
* প্রাক্-নিবন্ধনের জন্য ওপরে বর্ণিত নির্ধারিত কেন্দ্রে নির্দিস্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে। ফরমে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লিখলে জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্যভান্ডার থেকে (নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, পেশা, জন্মতারিখ, স্থায়ী ঠিকানা, নারী/পুরুষ বৈবাহিক অবস্থা) তথ্য স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে গ্রহণ করবে। পাসপোর্টের তথ্য (নম্বর, প্রকার, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ), সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ প্রাক্-নিবন্ধন করা হবে।
* ট্র্যাকিং নম্বরসংবলিত প্রিন্ট করা কাগজসহ সরকার নির্ধারিত ব্যাংকে (সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩০ হাজার টাকা, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩০ হাজার ৭৫২ টাকা) জমা দিতে হবে।
* টাকা পরিশোধের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাংক থেকে হজের প্রাক্-নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে। প্রাক্-নিবন্ধন সনদে জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য, প্রাক্-নিবন্ধন নম্বর, পাসপোর্টের তথ্য, ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া বিবরণ থাকবে। একই সঙ্গে হজযাত্রীর মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে প্রাক্-নিবন্ধন নিশ্চিত করা হবে।
* নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দিলে নতুন করে আবার আবেদন করতে হবে।
* চলতি বছর হজে যাওয়ার জন্য নির্বাচিত হলে আপনার মোবাইলে একটি এসএমএস আসবে ।
* প্রাক্-নিবন্ধনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (আগামী ৩০ মে) হজ কার্যালয়/ সংশ্লিষ্ট এজেন্সি হজযাত্রীদের আবেদন অনলাইনে গ্রহণ করে পছন্দনীয় হজ প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে হজযাত্রী হিসেবে নিশ্চিত করলে পিলগ্রিম আইডি তৈরি হবে। পিলগ্রিম আইডি না পেলে হজে যাওয়া যাবে না। হজ নিবন্ধন নম্বর কোেনাভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়।
* প্রাক্-নিবন্ধনের জন্য অগ্রিম টাকা প্রদান করে যদি কেউ হজে না যান, তাহলে প্রসেস ফি ৩ হাজার টাকা বাদ দিয়ে বাকি টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।

প্রাক্-নিবন্ধনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিজনেস অটোমেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হাসান মিতুল বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নির্বাচন কমিশনের সার্ভার থেকে গ্রহণ করা হবে এবং ব্যাংক কর্মকর্তার প্রত্যয়নের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। ফলে কোনো অসাধু এজেন্সি কাল্পনিক নাম যেমন: মোবাইল, সিম দিয়ে নিবন্ধনের ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করতে পারবে না। আমরা বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগকে নিয়োগ দিয়েছি পুরো বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্য।’

এবার কত টাকা লাগবে
সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ রয়েছে। একটি প্যাকেজে হজযাত্রীর খরচ হবে ৩ লাখ ৬০ হাজার ২৮ টাকা, অন্যটিতে খরচ হবে ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা। এ ছাড়া কোরবানির জন্য প্রতিটি প্যাকেজে আরও খরচ হবে সাড়ে ১০ হাজার টাকা (৫০০ রিয়াল)।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্যাকেজ রয়েছে। নূ্যনতম প্যাকেজ হলো ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা। এ ছাড়া ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা থেকে আরও বেশি টাকার প্যাকেজ রয়েছে।

পরামর্শ
* হজে যাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ প্রাক্-নিবন্ধন করতে হবে।
* মক্কায় বাসার দূরত্ব নির্ধারিত হয় কাবা শরিফ থেকে। আর মদিনায় মসজিদে নববী থেকে। বাসস্থান কত দূর, তার ওপর নির্ভর করে হজের ব্যয়ের টাকা। অর্থাৎ কাবা শরিফ থেকে বাসার দূরত্ব কম হলে খরচ বেড়ে যাবে। যত বেশি দূরত্ব হবে, খরচও তত কম হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে হজের প্যাকেজ ঠিক করুন।
* প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য বিমানভাড়া ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ টাকা, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতে যাতায়াত ব্যয়, মিনায় তাঁবুভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি ২২ হাজার ৮৬৯ টাকা, জমজম পানি ৩১৫ টাকা, ব্যাংক গ্যারান্টি ১ হাজার ৪২৮ টাকা, স্থানীয় সেবামূল্য ৮০০ টাকা, আপৎকালীন তহবিল ২০০ টাকা, হজ প্রশিক্ষণ ফি ৩০০ টাকা, ব্যাগ বাবদ ২ হাজার টাকা খরচ হবে। এই খরচ সবার জন্য নির্ধারিত। বাকি টাকা মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া, খাবার খরচ, মিনা-আরাফাতে মোয়াল্লেমের অতিরিক্ত খরচ, ট্রেনভাড়া, হজ গাইড ও কোরবানির খরচ এজেন্সি প্যাকেজ অনুযায়ী ঠিক করে থাকে।
* ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত হজ এজেন্সির তালিকা www.hajj.gov.bd ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে।
* হজ প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য তথ্য ঢাকার আশকোনা হজ অফিসে দেওয়া হয়।
* সৌদি আরবের টিভি চ্যানেলে ২৪ ঘণ্টা মসজিদে নববী ও কাবা শরিফে তাওয়াফ সম্প্রচার করে, সম্ভব হলে ওই সব চ্যানেল দেখলে আগে থেকে ওমরাহ, তাওয়াফ, মসজিদের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে।
* ছাপানো অথবা ইন্টারনেটে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাতের মানচিত্র পাওয়া যায়। সম্ভব হলে মানচিত্র দেখুন, তাহলে ওখানকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি সম্পর্কে একটা ধারণা পাবেন।
* ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে (আইডিবি) ৫০০ রিয়াল জমা দিয়ে কুপন কিনে কোরবানি দেবেন। এটা সৌদি সরকারের স্বীকৃত ব্যবস্থা।
* ভাষার ভিন্নতা, নতুন দেশ, নতুন পরিস্থিতির কারণে কিছুসংখ্যক হজযাত্রী সমস্যায় পড়ে থাকেন। কয়েকবার হজ পালন করেছেন, এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কিছুটা ধারণা থাকলে, সচেতন হলে অনেক সমস্যা দূর করা যায়। পাঠকের সুবিধার্থে তাঁদের কিছু পরামর্শ:
* কোনোভাবেই মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল বা তথাকথিত মোয়াল্লেমের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন না।
* ঘোষিত হজ প্যাকেজের চেয়ে কম টাকায় হজে গেলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
* কোন কোন এজেন্সির বিরুদ্ধে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ রয়েছে তা যাচাই করুন।
* সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেভাবেই হজে যান না কেন, হজ প্যাকেজের সুবিধা কী কী, ভালোভাবে বুঝে যাচাই করুন। আপনার প্রিয়জন অথবা পরিচিত যঁারা আগে হজে গিয়েছেন, তঁাদের সঙ্গে এজেন্সির সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে পরামর্শ করুন। হজ প্যাকেজে কিছু খরচ নির্দিষ্ট আছে, যেমন বিমানভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি। বাকি টাকা মক্কা-মদিনায় বাসস্থানের জন্য। হাজিদের আবাসন কোথায় হবে, তার স্বচ্ছ ধারণা দেশ থেকেই জেনে রাখা প্রয়োজন।
* সম্ভব হলে নিজের পাসপোর্ট নিজে করান। কাউকে দিয়ে করালেও আপনার নাম-ঠিকানা পাসপোর্টে ঠিক আছে কি না, যাচাই করে নিন।
* হজ-সংক্রান্ত নিয়মকানুন জানুন। প্রয়োজনে যাঁরা হজে গেছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করুন ।
* মাহরাম (যেসব পুরুষের সঙ্গে দেখা করা জায়েজ। যেমন: স্বামী, বাবা, আপন ভাই, আপন চাচা-মামা, ছেলে ইত্যাদি) ছাড়া নারী হজযাত্রী এককভাবে হজে গমনের যোগ্য বিবেচিত হবেন না; নারী হজযাত্রীকে মাহরামের সঙ্গে একত্রে টাকা জমা দিতে হবে।
* হজের সময় প্রচুর হাঁটাচলা করতে হয়, পকেটে টাকা থাকলেও যানবাহন পাওয়া যায় না।
* যাঁরা পড়তে পারেন না, তাঁরা হজে যাঁরা গেছেন, তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করুন।
* হজের কোনো বিষয়ে বিভিন্নতা দেখলে ঝগড়া করবেন না। আপনি যে আলেমের ইলম ও তাকওয়ার ওপর আস্থা রাখেন, তাঁর সমাধান অনুযায়ী আমল করবেন। তবে সে অনুসারে আমল করার জন্য অন্য কাউকে বাধ্য করবেন না।
* যাত্রার শুরুতে ভালো সফরসঙ্গী খুঁজে নেবেন, যাতে নামাজ আদায় করতে ও চলাফেরায় একে অন্যের সাহায্য নিতে পারেন।
* প্রয়োজনীয় বই-পুস্তক, হজ গাইড সংগ্রহ করে পড়ুন। কয়েক বছর ধরে প্রথম আলো হজযাত্রীদের সহায়ক হজ গাইড প্রকাশ করে বিনা মূল্যে তা বিতরণ করে। এটি প্রথম আলোর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। অথবা, হজের আগে হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের হাতে পৌঁছেও দেওয়া হয়।
হজ প্যাকেজে খরচের ভিন্নতা কেন
প্যাকেজে সৌদি আরবে হজের জন্য অবস্থানের মেয়াদ, বিমানের ধরন (সরাসরি না অন্য বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে পৌঁছাবে), মক্কায় বাসার ধরন এবং তা কাবা শরিফ থেকে কত দূর, বাসায় লিফট আছে কি নেই, বাসা না হোটেল, ফিতরা বা স্থানান্তর আছে কি নেই, খাবারের ব্যবস্থা আছে বা নেই, ঐতিহাসিক স্থানে বেড়ানোর ব্যবস্থা আছে বা নেই, কোরবানি আছে বা নেই ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে। একইভাবে মদিনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। আবার হজের সময় মিনায় তাঁবুতে বা আজিজিয়ায় থাকা কিংবা না থাকা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে হজের খরচের টাকার অঙ্ক।

.সরকারি ব্যবস্থাপনা
প্যাকেজ ১: সৌদি আরবের ভিসা, বিমানে যাওয়া-আসা, মক্কায় কাবা শরিফ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মিটার ও মদিনায় মসজিদে নববী থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিটারের মধ্যে তাসরিয়াযুক্ত (সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের যাচাই করা বাসস্থান) বাসায় থাকার ব্যবস্থা।
প্যাকেজ ২: সৌদি আরবের ভিসা, বিমানে যাওয়া-আসা, মক্কায় কাবা শরিফ থেকে সর্বোচ্চ দুই কিলোমিটার ও মদিনায় মসজিদে নববী থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ মিটারের মধ্যে তাসরিয়াযুক্ত বাড়িতে আবাসন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় খরচের খাত
দুই ধরনের প্যাকেজেই প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য বিমানভাড়া ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ টাকা, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতে যাতায়াত ব্যয়, মিনায় তাঁবুভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি ২২ হাজার ৮৬৯ টাকা, জমজম পানি ৩১৫ টাকা, অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ ২১ হাজার টাকা, মিনা আরাফাতে ট্রেনভাড়া ৫ হাজার ২৫০ টাকা, ব্যাংক গ্যারান্টি ১ হাজার ৪২৮ টাকা, স্থানীয় সেবামূল্য ৮০০ টাকা, আপৎকালীন তহবিল ২০০ টাকা, হজ প্রশিক্ষণ ফি ৩০০ টাকা, খাওয়ার খরচ ৩৩ হাজার ৬০০ টাকা, ব্যাগ বাবদ ২ হাজার টাকা ও হজ গাইড ৭ হাজার ৭১১ টাকা।
এ ছাড়া প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া একটি প্যাকেজে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৬৫ টাকা, অন্য প্যাকেজে ৮২ হাজার ৭৪০ টাকা।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় খরচের খাত
হজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য বিমানভাড়া ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ টাকা, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতে যাতায়াত ব্যয়, মিনায় তাঁবুভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি ২২ হাজার ৮৬৯ টাকা, জমজম পানি ৩১৫ টাকা, ব্যাংক গ্যারান্টি ১ হাজার ৪২৮ টাকা, স্থানীয় সেবামূল্য ৮০০ টাকা, আপৎকালীন তহবিল ২০০ টাকা, হজ প্রশিক্ষণ ফি ৩০০ টাকা, ব্যাগ বাবদ ২ হাজার টাকা। এ ছাড়া মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া, খাবার খরচ, মিনা-আরাফাতে মোয়াল্লেমের অতিরিক্ত খরচ, হজ গাইড ও কোরবানির খরচ এজেন্সি প্যাকেজ অনুযায়ী ঠিক করে থাকে।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এজেন্সিগুলোর সংগঠন হলো হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। হাবের ওয়েবসাইট www.haab-bd.com ঠিকানা: সাত্তার সেন্টার (১৬তম তলা), হোটেল ভিক্টোরি, ৩০/এ নয়াপল্টন, ভিআইপি রোড, ঢাকা।

কোন ব্যাংকে টাকা জমা দেবেন
নিম্নলিখিত ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া যাবে: ১. এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড ২. অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ৩. আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ৪. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লিমিটেড ৫. ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড ৬. এবি ব্যাংক লিমিটেড ৭. ফার্মাস ব্যাংক লিমিটেড ৮. আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড ৯. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড. ১০. যমুনা ব্যাংক লিমিটেড ১১. জনতা ব্যাংক লিমিটেড ১২. মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড ১৩. মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড ১৪. ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড ১৫. প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড ১৬. পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ১৭. রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ১৮. শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ১৯. সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ২০. সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ২১. সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড ২২. স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড ২৩. দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড ২৪. ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড।

পাসপোর্ট বানাবেন যেখানে
ঢাকায় আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এটিসহ সারা দেশে আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। হজযাত্রীরা নিজ নিজ জেলা অনুযায়ী পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে ওই জেলায় বসবাসকারীরা এমআর পাসপোর্ট বানাতে পারবেন। আবেদনপত্রসহ আরও তথ্য www.passport.gov.bd ঠিকানায় পাওয়া যাবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন
জাতীয় পরিচয়পত্রে কোেনা ভুল বা সংশোধন করতে www.nidw.gov.bd ঠিকানায় তথ্য পাওয়া যাবে।

মাধ্যম
সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ দুটি। একটিতে খরচ ৩ লাখ ৬০ হাজার ৯০৩ টাকা। অন্যটিতে ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ন্যূনতম খরচ ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা। এর চেয়ে কম টাকায় গেলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রাক–নিবন্ধন
জাতীয় পরিচয়পত্র, এমআর পাসপোর্ট, রঙিন ছবি, মোবাইল নম্বর, ৩০ হাজার ৭৫২ টাকাসহ প্রাক্-নিবন্ধন করতে হবে। আরও জানতে তথ্যসেবাকেন্দ্র ০৯৬০২৬৬৭০৭, www.hajj.gov.bd যোগাযোগ করুন।
কোটা
সর্বমোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮। এ সংখ্যা অতিক্রম করলে নিয়মমেতা হজযাত্রীরা অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকবেন এবং পরবর্তী বছর হজে যাবেন।
নিবন্ধন
চলতি বছর হজে যাওয়ার জন্য নির্বাচিত হলে হজযাত্রীর মোবাইলে এসএমএস দেওয়া হবে। পছন্দনীয় হজ প্যাকেজের টাকা পিরশোধ সাপেক্ষে হজ এজেন্সি নিশ্চিত করলে পিলগ্রিম আইডি তৈরি হবে।
নিয়মকানুন
প্রয়োজনীয় বই-পুস্তক পড়ুন। কয়েক বছর ধরে প্রথম আলো হজযাত্রীদের সহায়ক হজ গাইড প্রকাশ করে বিনা মূল্যে তা বিতরণ করে। যাঁরা হজে গেছেন,প্রথম আলো হজ গাইড তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করুন।

২০০৭ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে

প্রথম আলো হজ গাইড

গত নয় বছরে প্রায় ১০ লাখ
প্রথম আলো হজ গাইড
বিনা মূল্যে বিতরণ হয়েছে
হজ গাইডটি ডাউনলোড করতে কিউআর কোডটি স্ক্যান অথবা ভিজিট করুনhttp://goo.gl/TngllT

Comments

comments

Comments are closed.