প্রচ্ছদ > জেনে নিন > গাড়ি কিনতে ঋণ পাবেন যেভাবে
গাড়ি কিনতে ঋণ পাবেন যেভাবে

গাড়ি কিনতে ঋণ পাবেন যেভাবে

সাধ ও সাধ্যের টানাপড়েনে পড়ে অনেক মধ্যবিত্তেরই গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ হয় না। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে এগিয়ে এসেছে ব্যাংক। গাড়ি কেনার জন্য অধিকাংশ ব্যাংকই দিচ্ছে ঋণ। স্বল্পমেয়াদি এই ঋণ নিয়ে অনেকেই কিনছেন গাড়ি। এ খাতের ঋণ নিয়মিত আদায় হয় বলে ব্যাংকগুলোর যেমন আগ্রহ এতে, তেমনি গ্রাহকদের চাহিদাও বেশ। তবে সবাই এই ঋণ নিতে পারেন না। ব্যাংকগুলো গ্রাহক নির্বাচনে একটু সতর্ক।

কারা পাবেন এই ঋণ  
সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিদেশি কোম্পানিতে কর্মরত ব্যক্তি, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি, এসব প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের গ্যারান্টিতে অন্য আবেদনকারী, দেশের খ্যাতিমান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।

ঢাকা ব্যাংক : সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। গাড়ির দামে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। বাকি টাকা নিজের দিতে হবে। ছয় বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করতে হবে। সুদের হার সাড়ে ১৪ শতাংশ।

এনসিসি ব্যাংক : ২ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। সুদের হার ১৫ শতাংশ। ঋণ নেওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে শোধ করতে হবে। ঋণের আবেদন করতে ফি লাগবে ৬০০ টাকা। এ ছাড়া অন্য কোনো ফি নেই। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৬০ বছর। আবেদনকারী চাকরিজীবী হলে চাকরির বয়স অবশ্যই তিন বছর হতে হবে। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

যমুনা ব্যাংক : আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। ঋণের পরিমাণ ৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা। সুদের হার ব্যবসায়ীদের েেত্র ১৩ শতাংশ ও চাকরিজীবীদের েেত্র ১৫ শতাংশ। চাকরিজীবীদের ঋণের ঝুঁকি থাকায় সুদের হার একটু বেশি।

ট্রাস্ট ব্যাংক : ২ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। সুদের হার ১৬ শতাংশ। এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করতে হয়। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছর।

ইস্টার্ন ব্যাংক : সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। গাড়ির দামের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। বাকি টাকা নিজেকে দিতে হবে। সুদের হার ১৫ শতাংশ। সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করতে হবে। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২২ থেকে ৬৫ বছর।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক : সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। সুদের হার ১৭ শতাংশ। ঋণের প্রসেসিং ফি ১ শতাংশ, রিস্ক ফান্ড ১ শতাংশ দিতে হবে। মোট ঋণের টাকার ওপর এই ফি নির্ধারণ করা হবে। মাসিক কিস্তিতে এক থেকে তিন বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করতে হবে। যাদের মাসিক আয় ১ লাখ টাকা তারা আবেদন করতে পারবেন।

এবি ব্যাংক : নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কিনতে এই ঋণ দেওয়া হয়। ঋণের সুদের হার ১২ দশমিক ৫০ থেকে ১৫ দশমিক ৫০ পর্যন্ত। গ্রাহকভেদে সুদ নির্ধারণ করা হয়।

ব্যাংক এশিয়া : সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়। পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করতে হয়। ভালো গ্রাহকদের কম সুদে ঋণ দেয়।

ওয়ান ব্যাংক : ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত। এক থেকে তিন বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করতে হবে। সুদের হার ১৩.৫০ শতাংশ।

প্রাইম ব্যাংক : সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে ঋণের টাকা শোধ করতে হবে। গাড়ির দামের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ দেওয়া হয়। ঋণের সুদের সঙ্গে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে প্রসেসিং ফি দিতে হয়।

ইসলামী ব্যাংক : ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে ব্যাংক। গাড়ির দামের ৩০ শতাংশ দিতে হয় গ্রাহককে। বাকি টাকা দেবে ব্যাংক।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক : নতুন গাড়ির জন্য ২০ লাখ ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির জন্য ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। মাসিক কিস্তিতে পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করতে হয়।

ইউসিবি : সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। তবে গাড়ির দামের ৩০ শতাংশের বেশি ঋণ দেওয়া হবে না। পাঁচ বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করতে হবে। ১ শতাংশ প্রসেসিং ফি নেওয়া হয়।

Comments

comments

Comments are closed.