প্রচ্ছদ > ক্যারিয়ার > টিপস অ্যান্ড ট্রিকস > কাজের জায়গায় নিজের অবস্থান
কাজের জায়গায় নিজের অবস্থান

কাজের জায়গায় নিজের অবস্থান

আপনি হোন না অফিসের বড় কর্তা কিংবা খুব সাধারণ কোনো পদের চাকুরে। কর্মক্ষেত্রে সবার জন্য নিজের অবস্থান ধরে রাখা জরুরি। এর জন্য কিছু বিষয় আপনাকে মানতেই হবে। লিখেছেন আরাফাত শাহরিয়ার

সময় মেপে অফিস
আপনার প্রথম কাজই হলো ঠিক সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছানো। সব অফিসে হয়তো নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে আপনাকে হাতে কিছুটা সময় নিয়েই বাসা থেকে বেরোতে হবে। নিজের গাড়ি থাকলেও আপনাকে রাস্তায় যানজটের কথা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। অফিসে নির্দষ্টি সময়ের পর পৌঁছে যানজটের অজুহাত কয়দিন খাটে বলুন! বরং এটি অফিসে আপনার ইমেজ ম্লান করে দেয়।
হাতের জরুরি কাজ শেষ করেই তবে অফিস ত্যাগ করা উচিত, অর্ধসমাপ্ত কিংবা অসমাপ্ত অবস্থায় কাজ রেখে যাওয়া উচিত নয়। নির্দষ্টি সময়ের আগে অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়াটাও পেশাদারিত্বের পর্যায়ে পড়ে না। তবে জরুরি কোনো প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া উচিত। প্রয়োজন পড়লে ছুটির আবেদন করুন, তা মঞ্জুরির পরই কেবল ছুটিতে যাওয়া উচিত, তার আগে নয়।

মানতে হবে ড্রেস কোড
অনেক অফিসে পোশাক নির্দষ্টি করা থাকে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তা মানতে হবে। যেসব অফিসে এসবের বালাই নেই, তাদের কথা অবশ্য ভিন্ন। তবে প্রত্যেকেরই অফিসে যাওয়ার সাজসজ্জা এবং পরনের পোশাক-আশাকে বিশেষ মনোযোগ রাখা দরকার। পোশাকের মধ্যমেই নিজেকে যতটা সম্ভব মার্জিত, শালীন, রুচিবান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং স্মার্ট হিসেবে তুলে ধরুন। আপনার সাজসজ্জা কিংবা পোশাক-আশাকে যেন কোনোভাবেই উগ্রতা প্রকাশ না পায়। কড়া গন্ধের সেন্ট ও পারফিউম ব্যবহার করবেন না। হাঁটার সময় শব্দ হয় এমন ধরনের জুতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। অনেক নারী চুমকি বসানো চোখ ধাঁধানো পোশাক পরে অফিসে যান, এটা মোটেও ঠিক নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্যাজুয়াল ড্রেসে অফিসে যাওয়াটা মোটেও উচিত নয়, তবে সব কিছুই করতে হবে অফিসের মেজাজ বুঝে। নিজের ডেস্ক এবং ব্যবহার্য জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন। পরিচ্ছন্নতাই আপনার অফিসে একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করতে সাহায্য করবে।

সময়ের কাজ সময়ে
সময়ের কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করে ফেলতে চেষ্টা করুন। অহেতুক কাজ জমিয়ে রাখলে পরবর্তী সময়ে সেগুলো একসঙ্গে করতে গেলে আপনাকে হিমশিম খেতে হবে, সঙ্গে সঙ্গে অফিসের কর্তাব্যক্তির বিরাগভাজনও হবেন। মিটিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় ফাইল ও অন্যান্য জিনিসপত্র গুছিয়ে নিন। ঠিক সময়ে মিটিং শুরুর আগেই টেবিলে কিংবা মিটিং রুমে উপস্থিত হোন। দেরিতে গিয়ে উপস্থিত হয়ে নিজে বিব্রত হবেন না, অন্যদের বিরক্ত করবেন না। কোনো কাজ না জানলে তা স্বীকার করে নেওয়া উচিত এবং কিভাবে করতে হবে, তা জেনে নেওয়া ভালো। সবজান্তা ভাব দেখালেই যে অফিসে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি হবে, তা কিন্তু নয়!

বাড়ির ঝামেলা অফিসে নয়
অফিসের ফোন থেকে ব্যক্তিগত ফোন করা উচিত নয়। অনেকে অফিসের ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। খুব বেশি জরুরি না হলে অফিসের টেলিফোন দিয়ে বাড়িতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়। অফিস সময়ে টেলিফোন আলাপ দীর্ঘায়িত করাও উচিত নয়। ফোনে কথা বলারও আছে কিছু কেতা। তাও মানতে হবে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের অফিসে দেখা করতে আসার বিষয়টি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। এতে কাজের পরিবেশ নষ্ট নয়। অনেকে বাড়ির ঝামেলা অফিসে টেনে আনে, এটা মোটেও উচিত নয়।

সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক
অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে যথাসম্ভব সদ্ভাব বজায় রাখার চষ্টো করুন। পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে বাড়িয়ে দিন সহযোগিতার হাত। দেখবেন, তারাও আপনাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সহকর্মীর ভালো কোনো খবরে তাকে অভিনন্দন জানান। তেমনিভাবে তার বিপদ-আপদে কিংবা দুঃসময়ে সহানুভূতি জানান। নিজের সমস্যা অথবা সাফল্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে অফিসে সহকর্মীদের মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক করবেন না। অন্যের সমালোচনা, পরনিন্দা, পরচর্চা এড়িয়ে চলার চষ্টো করুন। কোনো সহকর্মী সমস্যা সৃষ্টি করলে প্রথমে নিজে তা সমাধানের চষ্টো করুন। না পারলে কাছের কারো সহযোগিতা নিন।

ভুল থেকেও শেখার আছে
আপনি অফিসের প্রধান কিংবা সাধারণ কর্মকর্তা হোন, সেটা কোনো বিষয় নয়। আগে ভাবতে হবে, কর্মক্ষেত্রে আপনার নিজের যে কাজ, আপনি নিজে তার কতটা করে থাকেন। যদি দেখেন, আপনি অনেক কাজেই অন্যের ওপর নির্ভরশীল, তাহলে তা আপনার জন্য সুখকর কোনো বিষয় নয়। আর এই অন্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চষ্টো করুন। তাহলেই কর্মক্ষেত্রে আপনার মর্যাদা বাড়তে পারে। কাজ করুন পরিকল্পনা মাফিক। কাজে ভুল হতেই পারে। তা স্বীকার করে নিন। ভুল থেকেও অনেক কিছু শেখার থাকে। আর এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেই আপনি সফল হবেন। তবে একই ভুল বারবার করলে তা কিন্তু নিজের জন্য ভালো নয়। আরেকটি বিষয়, কেউই সব বিষয়ে সমান পারদর্শী হয় না। যেসব বিষয়ে আপনার দুর্বলতা আছে, তা কাটিয়ে ওঠার চষ্টো করুন। মোদ্দাকথা, কাজের মধ্য দিয়েই তুলে ধরতে হবে নিজেকে। তবেই না কর্মক্ষেত্রে তৈরি করতে পারবেন নিজের শক্ত অবস্থান।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*