প্রচ্ছদ > ক্যারিয়ার > টিপস অ্যান্ড ট্রিকস > বর্ষশুরুতেই বর্ষপরিকল্পনা
বর্ষশুরুতেই বর্ষপরিকল্পনা

বর্ষশুরুতেই বর্ষপরিকল্পনা

গেল বছরটা খারাপ গেছে বলে এ বছর হাল ছেড়ে দেবেন! শুরু থেকেই যদি হিসাব করে এগোনো যায়, ব্যর্থতা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া যায় অনেকটাই। এর জন্য বর্ষশুরুতেই চাই বর্ষপরিকল্পনা। লিখেছেন আরাফাত শাহরিয়ার

দেখতে দেখতে চলে গেল আরো একটি বছর। হিসাব কষে দেখলেন, সর্বশেষ বছরে ব্যর্থতার পাল্লাটাই ভারী। কিংবা পাননি আশানুরূপ সাফল্য। পেশাগত জীবনে একই মুদ্রার দুই পিঠ সাফল্য ও ব্যর্থতা। আপনি কতটা সফল হবেন, তা নির্ভর করে প্রচেষ্টার ওপর। এ বছর সফল হতে চান পুরোটাই, তাহলে বছরের শুরুতেই করে নিন বর্ষপরিকল্পনা। এটাই তো সময় সামনের দিনগুলোর জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা করার। বসে যান মাস, দিন, মৌসুমের হিসাব নিয়ে। দেখবেন আগামী দিনগুলোর জন্য তৈরি হয়ে গেছে চমৎকার একটি পরিকল্পনা।

এগিয়ে নেবে বর্ষপরিকল্পনা
সাফল্যের জন্য বছরের শুরুতেই কাজের পরিকল্পনা করা উচিত। এতে আপনার পেশায় বা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য একটা প্রস্তুতি নেওয়াও হয়ে যায়। তবে পরিকল্পনাটা হেলায়ফেলায় নিলে কিন্তু বিসমিল্লায় গলদ! শুরুটাই যদি ভালো না হয়, ভালো একটি কর্মবর্ষ আশা করছেন কিভাবে? তাই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। তৈরি করুন যুতসই ও যুগোপযোগী একটি বর্ষপরিকল্পনা। দিনক্ষণ হিসাব করে এ পরিকল্পনা নিলে তা আপনার প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের দিকে।

পরিকল্পনা আঁটবেন যেভাবে
পরিকল্পনা করার জন্য টেকসই, বাঁধাই করা একটি খাতা নিন। যদি আপনার পরিকল্পনা কম্পিউটারে লেখেন, তাহলে তা নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায় এমন জায়গায় কাজ শুরু করুন। দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর হিসাব করে মাসিক অথবা আপনার সুবিধা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের ছক করে ফেলুন। নতুন পরিকল্পনা করার আগে অতীতের লাভ-ক্ষতি হিসাব করে নিন। বছরের শুরুতেই যে কাজটি আপনি হাতে নিচ্ছেন, তাতে সাফল্য পেলে ভালো হয়। এতে আপনি পরবর্তী কাজের অনুপ্রেরণা পাবেন। এ জন্য অপেক্ষাকৃত সহজ কাজ বা মিশন হাতে নিন।
ঠিক করে নিন বছরের অন্যান্য কার্যসূচিও। তবে সব কিছুই হতে হবে সময়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। সারা বছরের জন্য একটা প্রাথমিক বাজেট তৈরি করুন। বাজেটটিতে আয়-ব্যয়ের হিসাব আলাদা আলাদা লিখুন। আপনার প্রতিযোগীদের কৌশল বোঝার চষ্টো করুন। তারপর আপনার প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত পরিকল্পনা ঠিক করে নিন। নিজের কৌশলের বিশেষ দিকগুলো গোপন রাখুন, যাতে তা অন্যরা জানতে না পারে। পরিকল্পনা তৈরির সময় অভিজ্ঞ, পারদর্শী কারো সহযোগিতা নিতে পারেন।

দায়িত্ব ভাগ করে দিন
বছরের শুরুতেই বৈঠকে যার যার দায়িত্ব ভাগ করে দিন। এ সময় মাথায় রাখতে হবে, কে কোন বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞ বা দক্ষতা রাখেন। যে যে বিষয়ে দক্ষ কেবল তাকে সে বিষয়ের সঙ্গে নিযুক্ত করার চেষ্টা করুন। আপনার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নতুন বা অনভিজ্ঞদের যুক্ত করুন অভিজ্ঞ কোনো কর্মীর সহযোগী হিসেবে। তুলনামূলক বেশি দায়িত্ব দিতে পারেন দক্ষ কর্মীদের কাঁধে। একই সঙ্গে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে তাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি। আর এটিও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে, পরিকল্পনারই একটি অংশ। যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করতে হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি সংরক্ষণ করুন। কোন কাজ করতে কী কী করার প্রয়োজন হতে পারে, তার একটি রূপরেখা তৈরি করে নিন। সে অনুযায়ী দায়িত্ব পাওয়া কর্মীকে সহযোগিতা করুন।

প্রতিষ্ঠানভেদে
প্রতিষ্ঠানভেদে বর্ষপরিকল্পনা ভিন্ন হতে পারে। সব প্রতিষ্ঠানের ধরন তো আর এক রকম নয়! আর প্রতিষ্ঠানের পরিধি যত বড় হবে, পরিকল্পনাও আঁটতে হবে সেভাবেই। থাকতে পারে প্রতিষ্ঠানের একাধিক শাখা। প্রতিটি শাখা অফিসের জন্য আলাদা করে কাজ নির্ধারণ করুন ও পরিকল্পনা আঁটুন। তবে তা অবশ্যই মূল পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে।
নতুন বছরে আপনার প্রতিষ্ঠানের কাজ ও পরিধি বাড়াতে চাইলে এর সম্ভাবনা, অনিশ্চয়তা, লাভ- লোকসান, ঝুঁকি, অর্জনের বিষয়গুলো ভালোভাবে বিবেচনায় আনতে হবে সবার আগে। এর জন্য অভিজ্ঞ লোকবল নিয়োগ করুন। মাথায় রাখতে হবে লজিস্টিক সাপোর্টের বিষয়টিও। তবে পরিধি বাড়ালেই কেবল চলে না, সব ক্ষেত্রে তদারকি খুবই দরকারি। এর জন্য প্রয়োজনে মনিটরিং সেল গঠন করুন।

দরকারি কিছু বিষয়
বছরের পরিকল্পনা করার পর পুরো বিষয় নিয়ে আপনি নিজে খুঁটিনাটি যাচাই-বাছাই করুন। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ কারো মতামতও নিতে পারেন। পরিকল্পনার একাধিক অনুলিপি বা কপি তৈরি করুন। আপনার নিজের কপিটি সতর্কতা ও যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করুন। কম্পিউটারে কাজ করে থাকলে একাধিক প্রিন্ট কপি অথবা সিডিতে সংরক্ষণ করুন। অনেকে বছরের পরিকল্পনা করেই বসে থাকে। তাতে পরিকল্পনা কোনো কাজে আসে না। প্রতি মাসে চলমান অথবা শেষ হওয়া কাজের সঙ্গে পরিকল্পনাটি মিলিয়ে দেখতে হবে, অগ্রগতি কতটুকু।

টিপস অ্যান্ড ট্রিকস
বছরের শুরুতেই কাজের পরিকল্পনা করে নেওয়াটাই ভালো। যদি তা করার সুযোগ না পান তাহলে যেকোনো সময়ই পরবর্তী তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা করে নিতে পারেন।
পরিকল্পনা করার পর ঘনিষ্ঠ, দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ কারো সঙ্গে বোঝাপড়া করে নিতে পারলে ভালো হয়।
প্রতিযোগীদের কৌশল বোঝার চষ্টো করুন। কয়েকটি সফল প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ করে কৌশল ঠিক করুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের কৌশলের বিশেষ দিকগুলো গোপন রাখুন, যাতে তা অন্যরা জানতে না পারে।
পরিকল্পনার একাধিক অনুলিপি রাখুন। এটি যেন হারিয়ে না যায়।
মাস শেষ হওয়ার পর বর্ষপরিকল্পনাটির সঙ্গে চলমান অথবা শেষ হওয়া কাজের অগ্রগতি মিলিয়ে দেখুন। কাজ পরিকল্পনা অনুসারে না এগোলো সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বা উদ্যোগ নিন।
পরিকল্পনা অপরিবর্তিত হবে, এমনটি নয়। সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনায় সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধন করতে পারেন।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*