প্রচ্ছদ > শিক্ষা > ফিচার > ক্যাডেট কলেজে ভর্তির এখনই সময়
ক্যাডেট কলেজে ভর্তির এখনই সময়

ক্যাডেট কলেজে ভর্তির এখনই সময়

সম্প্রতি ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। ১০ জানুয়ারি ২০১৪ বসবে লিখিত পরীক্ষার আসর। তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ এ পরীক্ষায় টিকতে হলে জোর প্রস্তুতি থাকা চাই। বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন সানজিদ আসাদ

 

পড়াশোনা ছাড়াও শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিভিত্তিক, চারিত্রিক, সাংস্কৃতিক ও নেতৃত্বের বিকাশে ক্যাডেট কলেজের জুড়ি মেলা ভার। তাই ক্যাডেট কলেজ অনেকের কাছেই স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ। দেশে আছে ১২টি ক্যাডেট কলেজ- ছেলেদের ৯টি, মেয়েদের তিনটি। স্বায়ত্তশাসিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজি মাধ্যমে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার সুযোগ মেলে। ভর্তির সুযোগ আছে বছরে একবারই। এ বছর শুরু হয়ে গেছে ভর্তি প্রক্রিয়া।

 
ঘরে বসেই আবেদন
ক্যাডেট কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ। আবেদন করা যায় অনলাইনে। আবেদন করতে লগইন করতে হবে www.cadetcollege.army.mil.bd ঠিকানায়। ২৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে আবেদন গ্রহণ। চলবে ২৬ ডিসেম্বর বেলা ২টা পর্যন্ত। একজন প্রার্থী একবারই ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে ট্রাস্ট ব্যাংক মোবাইল মানি, কিউ ক্যাশ ও টেলিটক মোবাইলের প্রিপেইড সংযোগ থেকে। এ তিনটি মাধ্যমে আবেদনের ফি জমা দিতে হবে যথাক্রমে এক হাজার পাঁচ, এক হাজার দশ ও এক হাজার এক শ টাকা।

 

আবেদনের যোগ্যতা
প্রার্থীকে ষষ্ঠ শ্রেণী অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ১৪ বছর। উচ্চতা নূ্যনতম ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি হতে হবে। বালক-বালিকা উভয়ের জন্যই এটি প্রযোজ্য। দৃষ্টিশক্তি থাকতে হবে চশমা ছাড়া এক চোখে ৬/১২ ও অন্য চোখে ৬/১৮। চশমাসহ উভয় চোখে থাকতে হবে ৬/৬।

 
পরীক্ষা পদ্ধতি
২০১৪ সালের ১০ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হবে লিখিত পরীক্ষা। সিলেট, কুমিল্লা ও মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষক মুহম্মদ মাছুম বিল্লাহ জানান, লিখিত পরীক্ষায় মোট ২০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে।
পরীক্ষা হবে রচনামূলক, এমসিকিউ বা কুইজ পদ্ধতিতে। তবে বেশির ভাগ প্রশ্নই করা হয় এমসিকিউ টাইপের। এবার ইংরেজিতে ৭৫, গণিতে ৫৫, বাংলায় ৪০ এবং সাধারণ জ্ঞানে ৩০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। পরীক্ষা দেওয়া যাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে। ক্যাডেট কলেজের সিলেবাস ও প্রসপেক্টাস পাওয়া যাবে www.cadetcollege.army.mil.bd ঠিকানার অ্যাডমিশন মেনু্যতে। অনলাইনে আবেদন শেষে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে একই ওয়েব ঠিকানায়।

 
ইংরেজি
ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে ৭৫- অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের এক শিক্ষক জানান, বেশি প্রশ্ন আসে গ্রামার থেকে। Sentence, Parts of speech, Gender, Number, Punctuation and use of capital letters, Tense, Subject and Predicate, Agreement of Subject and Verb, Transformation of Sentences ভালোভাবে পড়তে হবে।
Correct form of Verbs, Contractions, Re-arrange, Spelling, Phrases and Idioms-এর ওপরও ভালো দখল থাকতে হবে। Comprehension, Paragraph, Story writing এবং Argumentative Essay-ও পরীক্ষায় আসবে। ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিংয়ের চর্চা করলে পরীক্ষায় বেশ কাজে আসে।

 
বাংলা
বাংলা বিষয়ের জন্য বোর্ড নির্ধারিত ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা পাঠ্য বই এবং নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড নির্ধারিত বাংলা ব্যাকরণ পড়তে হবে। গত বছরের মতো এবারও ৪০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।
ব্যাকরণ অংশে ধ্বনি ও বর্ণ, ণ-ত্ব বিধান ও ষ-ত্ব বিধান, সন্ধি থেকে প্রশ্ন আসবে। শব্দ ও পদ পরিচয় অংশে শব্দ, পদ, পদের শ্রেণীবিভাগ, পদ পরিবর্তন, বিপরীত শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, সংখ্যাবাচক শব্দ থেকে প্রশ্ন থাকবে। এ ছাড়াও লিঙ্গ, বচন, ক্রিয়ার কাল, শ্রেণীবিভাগ ও প্রয়োগ, কারক, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ ও বিরাম চিহ্ন থেকে প্রশ্ন করা হবে। নির্মিতি অংশে ভাবসম্প্রসারণ, অনুচ্ছেদ লিখন/যুক্তিভিত্তিক অনুচ্ছেদ (১০-১৫ বাক্য), অনুধাবন, সারাংশ ও সারমর্ম থেকে প্রশ্ন করা হবে এ বছর।

 
গণিত
গণিত থেকে এ বছর থাকবে ৫৫ নম্বরের প্রশ্ন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ছাত্র মুনতাসীর জামান জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণীর মূল বইকে ভিত্তি ধরে গণিত বিষয়ের প্রশ্ন করা হয়। পরীক্ষায় অল্প সময়ে অনেক গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে হয়। তাই দ্রুত সমাধান করার কৌশল আয়ত্ত করতে হবে, বারবার চর্চা করতে হবে।
স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নাংশ, অনুপাত ও শতকরা, পূর্ণসংখ্যা, বীজগণিতীয় রাশি, সরল সমীকরণ থেকে প্রশ্ন আসবে।
প্রশ্ন করা হবে জ্যামিতির মৌলিক ধারণা ও ব্যবহারিক জ্যামিতি থেকে। এ ছাড়া তথ্য ও উপাত্ত, বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক অঙ্ক দেওয়া হবে ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষায়।

 

সাধারণ জ্ঞান
সাধারণ জ্ঞান থেকে বিগত বছরগুলোতে ২০ নম্বরের প্রশ্ন করা হলেও এবার বাড়িয়ে ৩০ করা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আগের তুলনায় একটু বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বোর্ড নির্ধারিত ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বই থেকে প্রশ্ন করা হবে। বিগত বছরগুলোতে বই থেকেই ৮-১০টি প্রশ্ন করা হতো। এবার আরো বেশি আসতে পারে। সাধারণ জ্ঞান ও চলতি ঘটনাবলি (বাংলাদেশ সম্পর্কিত) থেকেও প্রশ্ন করা হবে। বাংলাদেশ বিষয়াবলি থেকে মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন জাতীয় দিবস, নদ-নদী, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ঐতিহাসিক স্থান ইত্যাদি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।
প্রতিবছর খেলাধুলা বিষয়ে দু-একটি প্রশ্ন থাকে। ভালো করতে চাইলে সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতে হবে।  সাধারণ জ্ঞান অংশে বুদ্ধিমত্তা থেকেও প্রশ্ন করা হবে। মাথায় রাখতে হবে এ বিষয়টিও।

 
মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা
লিখিত পরীক্ষার বৈতরণী পার হয়ে প্রার্থীকে ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর আচরণ, বাচনভঙ্গি এবং উপস্থিত বুদ্ধি যাচাই করা হয়। প্রার্থীকে অবশ্যই সহজ, সুন্দর ও সাবলীলভাবে উত্তর দিতে হবে। ক্যাডেট কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চতা ঠিক আছে কি না, উচ্চতা অনুযায়ী শরীরের ওজন আছে কি না, তা স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মাপা হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দৃষ্টিশক্তি, চুল, চোখ, হাত-পায়ের নখ এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পরীক্ষা করা হয়। চুল ছোট করে নিতে হবে। হাত-পায়ের নখ কেটে ছোট করতে হবে। সাঁতার জানা না থাকলে অবশ্যই শিখে নিতে হবে। সু্যইটাবিলিটি টেস্ট নামে যুক্ত হয়েছে আরো একটি পরীক্ষা। এতে বরাদ্দ থাকবে ৫০ নম্বর। এ পরীক্ষায় প্রার্থী ভর্তির জন্য কতটা যোগ্য তা যাচাই করা হবে।

 
সিলেবাস দেখে প্রস্তুতি
চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ছাত্র তাহমিদুল হাসান জানাল, প্রস্তুতি নিতে হবে সিলেবাস অনুসারে। অনেকে ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাসটা না দেখে গাইড বই থেকে প্রস্তুতি নেয়। এ কারণে পড়ার বিষয়গুলোকে অনেকের কাছেই বিশাল বোঝা মনে হয়। সিলেবাসটা দেখলে এ ভার অনেকটাই নেমে যাবে।
অনেকে সিলেবাসের বাইরেও ব্যাপক প্রস্তুতি নাও; কিন্তু পড়াটা অনেক বেশি হলে সব বিষয় মনে রাখা সম্ভব হয় না, পরীক্ষাও ভালো হয় না। বিগত বছরের প্রশ্ন দেখলে প্রশ্নের ধারা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
সিলেট, কুমিল্লা ও মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষক মুহম্মদ মাছুম বিল্লাহ জানান, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে প্রতিবছরই কিছু পরিবর্তন আনা হয়। প্রশ্নপত্রে হঠাৎ পরিবর্তন দেখলে ভয় পাওয়া যাবে না।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*