প্রচ্ছদ > শিক্ষা > ফিচার > ডাক্তার হতে চাও যদি
ডাক্তার হতে চাও যদি

ডাক্তার হতে চাও যদি

বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের অনেকেরই প্রথম পছন্দ চিকিৎসাবিদ্যা। তাই মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা হয় দারুণ প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এবারের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। দরকারি পরামর্শ দিয়েছেন গতবারের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ

মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ। কারণ প্রতিবছর যে পরিমাণ ছাত্রছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করে, মেডিক্যালে আসনসংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম। ভর্তি পরীক্ষায় মূলত একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা হয়। তাই প্রশ্নে মারপ্যাঁচ অনেক বেশি থাকে। একবারের দেখায় মনে হতে পারে প্রশ্ন খুবই সহজ। এ জন্য অনেক ভুল চোখ এড়িয়ে যায়। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন প্রশ্ন করা হলো, দ্বিপদ নামকরণের আবিষ্কারক কে? অনেকে হয়তো চোখ বন্ধ করে উত্তর করে বসবে, ক্যারোলাস লিনিয়াস। কিন্তু এটা ভুল। আবিষ্কারকের নাম ক্যাসপার বাউহিন। ক্যারোলাস লিনিয়াস হলেন দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তক। তাই আন্তরিক প্রস্তুতি নিতে হবে আর হতে হবে কৌশলী।

২০১২ সালের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ

২০১২ সালের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ

জীববিজ্ঞান : প্রাণিবিদ্যায় বেশি জোর
ভর্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি নম্বর থাকে জীববিজ্ঞানে। এ বিষয়ে দিতে হবে বাড়তি মনোযোগ। উচ্চ মাধ্যমিকের বইগুলোর সর্বশেষ সংস্করণ পড়লে বেশ কাজে লাগে। জীববিজ্ঞানে প্রাণিবিদ্যা থেকে প্রশ্ন আসে বেশি। প্রাণিবিদ্যার জন্য পড়তে হবে গাজী আজমল ও নাসিম বানুর বই। দেখা যেতে পারে জালাল উদ্দিন আকবরের বইও। উদ্ভিদবিজ্ঞানের জন্য আবুল হাসানের বইটি বেশ কাজে দেবে। প্রাণিবিজ্ঞানের মানবদেহ অংশটুকু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তবে অন্যান্য অধ্যায়ও গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে।
প্রাণিবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বইয়ে থাকা সব পার্থক্য পড়তে হবে। কোনটা প্লাস, কোনটা মাইনাস এটা তুলনা করে পড়লে সহজে মনে থাকে। বিভিন্ন মতবাদের জনক, সূত্র, আবিষ্কার সাল সম্পর্কে ভালো ধারণা নিতে হবে।

রসায়ন : দ্বিতীয় পত্র থেকে বেশি প্রশ্ন
নামীয় বিক্রিয়া, যৌগের প্রস্তুত প্রণালি, বিভিন্ন পলিমার এবং এদের ব্যবহার থেকে প্রশ্ন আসে। রাসায়নিক বিক্রিয়া বা সংকেত মুখস্থ করার দরকার নেই। ভর্তি পরীক্ষায় বিক্রিয়া সরাসরি আসে না। ডাটা, সংখ্যাবাচক জটিল শব্দ ও তথ্য মনে রাখার জন্য নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। রসায়নে প্রতিবছর বেশি প্রশ্ন করা হয় হাইড্রোকার্বন, জৈব এসিড, ডি ব্লক মৌল, রাসায়নিক বন্ধন, তড়িৎ রাসায়নিক কোষ, হ্যালোজেন, অ্যালডিহাইড অধ্যায় থেকে। আগের বছরগুলোয় দেখা গেছে, দ্বিতীয় পত্র থেকে প্রশ্ন আসে বেশি। সব বিক্রিয়া মুখস্থ না করে চতুর্থ এবং পঞ্চম অধ্যায় ভালোভাবে পড়লে অনেক বিক্রিয়ার ফলাফল অনুমান করা যায়। পড়া যেতে পারে কবির স্যার, রবিউল স্যার এবং হাজারী নাগের বই।

পদার্থবিদ্যা : কাজে দেবে শর্ট নোট
পদার্থবিদ্যা তুলনামূলক সহজ। তাই অনেকে গুরুত্ব কম দেয়। অথচ পদার্থবিদ্যার যে ছোট অঙ্কগুলোকে সহজ মনে হয়, সেগুলোই পরীক্ষার মূল্যবান সময় নষ্ট করে। ছকের কথা তো বলাই বাহুল্য। সংখ্যার প্রাচুর্য, বৈচিত্র্য এবং এককের ব্যবহার বেশ ঝামেলা পাকায়। এ ক্ষেত্রে মূল বই ভালো করে পড়তে হবে। যা পড়বে, সঙ্গে সঙ্গে সেটার শর্ট নোট নিয়ে রাখবে। সংখ্যাসংবলিত চার্টগুলো ছাড়াও এককের ব্যাপারটা খেয়াল রাখবে। মুখস্থ করবে এ বিষয়ের সূত্র ও ছোট সমীকরণগুলো। গুরুত্বসহকারে পড়বে পদার্থের বৈশিষ্ট্য ব্যবহার ও পার্থক্য, একক মাত্রা নির্ভরশীলতা, প্রাকৃতিক ঘটনাবলির ব্যাখ্যা। পদার্থবিজ্ঞানের জন্য তপন স্যার, ইসহাক স্যার ও তফাজ্জল স্যারের বই পড়তে পারো।

ইংরেজি : ব্যাকরণে বেশি গুরুত্ব
উচ্চ মাধ্যমিকে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে থাকলে ভর্তি পরীক্ষার জন্যও বেশি ভাবতে হবে না। বেশি গুরুত্ব দিতে হবে গ্রামার অংশে। চর্চা করতে হবে ব্যাকরণের সাধারণ নিয়মগুলো। সিনোনিম, অ্যান্টোনিম, অ্যানালজি, ভোকাবুলারি, রাইট ফর্মস অব ভার্ব, টেনস, পার্টস অব স্পিচ, ন্যারেশন, ভয়েস, ফ্রেজ অ্যান্ড ইডিয়মস, অ্যাপ্রোপ্রিয়েট প্রিপোজিশন থেকে প্রতিবছর প্রশ্ন আসে। নিয়মিত চোখ রাখতে হবে ইংরেজি দৈনিকে, এটি কাজে দেবে।

সাধারণ জ্ঞান : নজর দিতে হবে সাম্প্রতিকে
বাংলাদেশ বিষয়াবলি থেকে প্রশ্ন আসে বেশি। পড়তে হবে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিও। সাধারণ জ্ঞানের জন্য কোনো বড় কলেবরের বই মুখস্থ করে সময় নষ্ট না করে সাম্প্রতিক বিষয়াবলি, বিশ্বের বৃহত্তম, ক্ষুদ্রতম এ ধরনের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। এতে যে সময় বাঁচবে, তা অন্য বিষয়ের পেছনে ব্যয় করা ভালো। দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত পড়লে সাধারণ জ্ঞান নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে হবে না।

প্রশ্ন হবে সব লেখকের বই থেকে
প্রতিদিন একটা নির্দষ্টি সময় ধরে পড়ো। যতটুকু পড়া শেষ হলো, তা লিখে রাখো। এতে কতটুকু সিলেবাস বাকি আছে, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাবে। দ্রুত প্রস্তুতির জন্য এটা বেশ কাজে দেবে।
ভর্তি পরীক্ষায় একই বিষয়ে সাধারণত বিভিন্ন লেখকের বই থেকে প্রশ্ন করা হয়। এইচএসসিতে যারা একজন লেখকের বই পড়ে এসেছে, তাদের জন্য এই অল্প সময়ে অন্যান্য লেখকের বই পড়ে শেষ করা কঠিন কাজ। এ ক্ষেত্রে যা করতে পারো, এইচএসসিতে যে লেখকের বই পড়ে এসেছ তা ভালোভাবে রিভিশন দিয়ে অন্য লেখকের বইয়ে চোখ বুলিয়ে যাও। অন্য বইগুলোতে অতিরিক্ত যেসব তথ্য আছে তা টুকে রাখতে পারো। মূল বইপড়ার সময় প্রতিটি অধ্যায়ের পাশে নোট রাখবে। এগুলো শেষ মুহূর্তে কাজে দেবে, রিভিশনের সময় ঝামেলা পোহাতে হবে না।

মূল বই থেকেই প্রশ্ন হবে
সাধারণ জ্ঞান অংশটি ছাড়া প্রায় সব প্রশ্নই করা হয় মূল বইকে ভিত্তি করে। বিগত কয়েক বছরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন দেখলে কোন অধ্যায়ের কোন অংশ থেকে বেশি প্রশ্ন আসে, সে ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যাবে। না বুঝে মুখস্থ করলে তা আখেরে খুব একটা কাজে আসবে না। উদাহরণগুলো বেশি বেশি চর্চা করলে কাজে দেবে।
জটিল বিষয়গুলো ছন্দ মিলিয়ে পড়তে পারো। বারবার লিখলে কঠিন বিষয়ও আয়ত্তে চলে আসবে। বই দাগিয়ে পড়তে পারো। দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নিজে নিজে পরীক্ষা দেবে। ঘরে বসে মডেল টেস্ট দিলে ধরা পড়বে নিজের দুর্বলতা।
প্রথমবারে মেডিক্যালে চান্স পাওয়া যায় না, এমন একটা ভুল ধারণা চালু আছে। প্রথমবার হলে হলো, দ্বিতীয়বার সুযোগ তো আছে- এই ভেবে অনেকে প্রস্তুতিতে গাছাড়া ভাব দেখায়। এটা মোটেও ঠিক নয়। প্রথমবারেই মেধাতালিকায় থাকার লক্ষ্য রাখতে হবে।

আবেদনের যোগ্যতা
এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা হবে ৪ অক্টোবর। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ভর্তি-প্রক্রিয়া। গেল বছরের মতো এবারও আবেদন করতে হবে অনলাইনে। শেষ তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩। ২০১০ বা ২০১১ সালে এসএসসি বা সমমান এবং ২০১২ বা ২০১৩ সালে যারা এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় (পদার্থ, রসায়ন ও জীববিদ্যাসহ) পাস করেছে, তারাই আবেদনের সুযোগ পাবে। এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে জিপিএ পেতে হবে কমপক্ষে ৮.০০। কোনোটিতে ৩.৫-এর নিচে থাকলে আবেদন করা যাবে না। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তিনটি পার্বত্য জেলার প্রার্থীদের বেলায় ন্যুনতম জিপিএ থাকতে হবে  ৭.০০। কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩.০০-এর নিচে থাকলে আবেদন করা যাবে না। তবে সব প্রার্থীকেই এইচএসসি পরীক্ষায় জীববিজ্ঞানে কমপক্ষে ৩.৫০ পেতে হবে।
ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য http://dghs.teletalk.com.bd ওয়েব ঠিকানায় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাইট www.dghs.gov.bd থেকে জানা যাবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি
ভর্তির ফলাফল নির্ধারণ করা হয় মোট ২০০ নম্বরের মানদণ্ডে। এর মধ্যে ১০০ নম্বর নির্ধারিত হয় এসএসসি ও এইচএসসির গ্রেড পয়েন্ট দ্বারা। এই ১০০ নম্বরের মধ্যে কত পাচ্ছ, তা জানার জন্য এসএসসির গ্রেড পয়েন্টকে ৮ এবং এইচএসসির গ্রেড পয়েন্টকে ১২ দিয়ে গুণ করে এ দুই গুণফল যোগ করতে হবে। বাকি ১০০ নম্বরে কত পাবে তা নির্ধারিত হবে ভর্তি পরীক্ষায়, যাতে মোট ১০০টি মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন (এমসিকিউ) থাকে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১। তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যায়। সময় এক ঘণ্টা। ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টন- জীববিজ্ঞান ৩০, রসায়ন ২৫, পদার্থবিজ্ঞান ২০, ইংরেজি ১৫ ও সাধারণ জ্ঞান ১০। প্রশ্নে ডাবল আনসার, ট্রিপল আনসার কিংবা ব্লাংক থাকতে পারে। অর্থাৎ চারটি বিকল্পের মধ্যে একটি, দুটি বা তিনটি সঠিক উত্তর থাকতে পারে। আবার সঠিক উত্তর নাও থাকতে পারে। সঠিক উত্তর না থাকলে বৃত্ত ভরাট করা যাবে না। যদি দুটি উত্তর ঠিক থাকে, তাহলে দুটি উত্তরের ঘরই ভরাট করতে হবে।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*