প্রচ্ছদ > আইনশৃঙ্খলা > আইন-আদালত > পুলিশ গ্রেফতার করলে
পুলিশ গ্রেফতার করলে

পুলিশ গ্রেফতার করলে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে বা অন্য কোনো কারণে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আটক করতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ। তবে  অভিযোগ ছাড়া কাউকে অনির্দিষ্টকাল আটক করে রাখার নিয়ম নেই। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ছেড়ে দিতে হয় বা কোন আইনের আওতায় সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার দেখাতে হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করাতে হয় পুলিশকে। ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনে আটকাদেশ দিতে পারেন। পুলিশ গ্রেফতার করলে কি করবেন, জেনে নিন-

# আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশের কাছে নিজের নাম, ঠিকানা ও পেশাসহ পরিচয় তুলে ধরতে হবে।
# চাকুরীজীবি বা ছাত্র হলে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। এ কারণে সবসময় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত।
# এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিচিত আইনজীবির ফোন নম্বর সঙ্গে রাখা যেতে পারে এবং গ্রেফতারের পর দ্রুত আইনজীবিকে বিষয়টি জানানো উচিত। তা সম্ভব না হলে অন্তত পরিবার, আত্নীয়স্বজন বা কাছের বন্ধু-বান্ধবকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
# ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে নেওয়া হয়, আর যে কোন থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে সংশ্লিষ্ট থানায় নেওয়া হয়।
# গ্রেফতারের পর কাউকে লকআপে রাখার আগে তার বিভিন্ন জিনিসপত্র যেমন, কাগজ, মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি থাকলে তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে আটককৃত ব্যক্তির সাক্ষর নেয়। এই সাক্ষর দেবার সময় তালিকাটি পড়ে নেয়া উচিত।
# পুলিশ অফিসারের কাছে কোন বিবৃতি দিলে তা পাঠ করে বা বিবৃতির ভাষ্য অবগত হয়ে তাতে স্বাক্ষর করা উচিত।
# গ্রেফতারের পর আইনজীবী বা পরিবারের কাউকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানাতে না পারলে আদালতে হাজির করার পর ম্যাজিস্ট্রেটকে সরাসরি বিষয়টি জানানো উচিত। এতে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। গ্রেফতারের পর কোনো পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার হলে বা  অসুস্থ হলে আদালতের মাধ্যমে বা নিজ উদ্যোগে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে নিতে নেওয়া যায়। চেকআপ করালে রিপোর্টটি সংগ্রহে রাখা উচিত। চেকআপকারী ডাক্তারের পরিচয় জেনে রাখা উচিত কারণ তা পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হতে পারে।
# পুরনো কোন মামলায় গ্রেফতার হলে দ্রুত ঐ মামলার নম্বরসহ কাগজপত্র নিয়ে আদালতে গিয়ে জামিন শুনানীর চেষ্টা করা যেতে পারে।
# নতুন কোন মামলায় বা কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হলে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জামিন শুনানীর চেষ্টা করা যেতে পারে।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Comments

comments

Comments are closed.