প্রচ্ছদ > স্বাস্থ্য > হেলথ টিপস > নারীর স্বাস্থ্যের যত্ন
নারীর স্বাস্থ্যের যত্ন

নারীর স্বাস্থ্যের যত্ন

আমাদের সারাদিন যিনি আগলে রাখেন; তিনি কারও কন্যা, স্ত্রী অথবা মমতাময়ী মা। যিনি সবার এত খেয়াল রাখছেন, তিনি নিজের খেয়াল রাখছেন কতটা?

সব বয়সের নারীদেরই চাই সঠিক যত্ন। করতে হবে নিয়মমতো খাওয়া-দাওয়া। একটি সময় মেয়েদের দরকার হয় একটু বেশি আয়রন, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন। তার সঙ্গে দেহের গঠন ঠিক রাখতে চাই কিছু ব্যায়াম। সুবর্ণা একজন মমতাময়ী মা, সচেতন স্ত্রী এবং কর্মজীবী নারী। তার সারাদিন কাটে অনেক পরিশ্রমে। তারপরও দিন শেষে শরীরে ভর করে না একটুও ক্লান্তি। কারণ সুবর্ণা খাদ্যাভ্যাসে সচেতন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করেন যতটা সম্ভব। সঙ্গে রাখেন হ্যান্ডি ফুড।

কি খাবেন, কি খাবেন না
স্মার্ট ডায়েট ক্লিনিক অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের ডায়েট এবং পুষ্টি কনসালট্যান্ট মাসুমা আক্তার বলেন, সবার প্রথমে বর্জন করতে হবে বাইরের ভাজাপোড়া খাবার। একই পোড়া তেলে বারবার ভাজা হয় বলে এটি শরীরে অনেক বেশি ড্যামেজ ফ্যাট তৈরি করে। ফলে মেয়েদের হেয়ার ফলিংও হচ্ছে। তাই যেসব নারীকে কাজের জন্য বাইরে থাকতে হয়, তারা সঙ্গে রাখতে পারেন সয়া পাউডার। এটি যে কোনো সময় পানির সঙ্গে গুলিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। এতে যেমন থাকে প্রচুর প্রোটিন, তেমনি ফিরে পাওয়া যায় অ্যানার্জি।

বয়স যখন ১৮ থেকে ৩০
১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সের নারীদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম খুব জরুরি। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই খাবারের প্রতি সচেতন নন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ূয়া মেয়েটিকে অথবা কর্মজীবী নারীকে অনেক সময় বাইরে থাকতে হয়। তাই তাদের অনেক খাচ্ছেন বাইরের খাবার, যা একেবারেই অনুচিত। তাদের সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে হালকা খাবার। যেমন আপেল, খেজুর ও কিশমিশের সালাদ। এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। সঙ্গে রাখা যেতে পারে স্যান্ডউইচ। সেটি চিকেন হলেই ভালো। এ ছাড়া সঙ্গে রাখা যেতে পারে ব্রুকলি সেদ্ধ। মেয়েদের শরীরে যে আয়রন প্রয়োজন তা পাওয়া যায় এটি থেকে। এ ছাড়া হ্যান্ডি ফুড হিসেবে রাখা যেতে পারে কাজু বাদামের সালাদ।

শরীর থাকুক ফিট ও স্লিম
ড্রিঙ্কস বিষয়ে বাইরের সফ্ট ড্রিঙ্কস একদম পরিহার করতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে গাজর অথবা মালটার জুস। এ ছাড়া বাড়িতে পানির সঙ্গে মধু ও লেবু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
রোজ কমপক্ষে এক ঘণ্টা হাঁটা উচিত। এটি শরীরকে ফিট ও স্লিম রাখতে খুবই সহায়ক। কারণ হাঁটার ফলে ঘাম ঝরে শরীর থেকে ফ্যাট কমে। এ ছাড়া সপ্তাহে তিন-চার দিন সুইমিং করা যেতে পারে। এতেও ফিটনেস ঠিক থাকে।

বয়স যখন চল্লিশ পার…
এ সময় একটু সচেতন থাকতে হয়। তখন মেয়েদের ক্যালসিয়ামের সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় ফ্রুুট হ্যাবিট বাড়াতে হবে। সঙ্গে লো ফ্যাট মিল্ক খেতে হবে দিনে দু’বার। নিয়মিত প্রেশার ও ডায়াবেটিস চেকআপ করাতে হবে। যেসব খাবারে বেকিং পাউডার দেওয়া থাকে সেগুলো খাওয়া যাবে না। যাদের প্রেশার আছে তাদের শুঁটকি মাছ খাওয়া যাবে না। কারণ এতে প্রেশার বেড়ে যায়। খাদ্যাভ্যাসে সালাদ রাখতে হবে নিয়মিত। এ সময় রাজমার সালাদ অনেক উপকারী। এ ছাড়া টোফুতেও প্রচুর প্রোটিন পাওয়া যায়। এ সময় বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ খাওয়া উচিত।
সকাল-বিকেল একটু নিয়ম করে হাঁটতে হবে। ব্যায়ামটাও করতে পারেন ঘরে বসে; সপ্তাহে দুই-তিন দিন। সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে খাবারে সোডিয়ামের দিকে। অধিক সোডিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে সব সময় বিরত থাকতে হবে। সোডিয়ামযুক্ত খাবার শরীরে প্রেশার বৃদ্ধি করে।

Share and Enjoy !

0Shares
0 0

Comments

comments

Comments are closed.